Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থ কমিশনের টাকা খরচে পিছিয়ে নদীয়া জেলা পরিষদ

অর্থ কমিশনের টাকা খরচে পিছিয়ে নদীয়া জেলা পরিষদ
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ওয়ার্ক অর্ডারের পরেও জেলা পরিষদের বহু কাজ শুরু করেনি ঠিকাদাররা। আবার কোনও কোনও কাজ টেন্ডার জটেই আটকে রয়েছে। যার ফলে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে পিছিয়ে রয়েছে নদীয়া জেলা পরিষদ। যা নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক ও মন্ত্রীর ধমকও জুটেছে। তারপরেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। কাজে গতি আনতে তৎপর হয়েছে। আটকে থাকা কাজগুলি অবিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার আগেই কাজ এগিয়ে রাখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।‌ নদীয়া জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুপকুমার দত্ত বলেন, ‘কাজে গতি আনতে আমরা বৈঠক করেছি। বেশি কিছু কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে রয়েছে। আবার কোনও কোনও জায়গায় জমিজটও রয়েছে। সমস্যার সমাধান করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার আগেই আমরা কাজ এগিয়ে রাখছি।’ নদীয়া জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির কাজ লেটার মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। দুই স্তরেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৯০ শতাংশের বেশি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। কোনও কোনও পঞ্চায়েতে আবার একশো শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জেলাশাসকের তদারকিতেই গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির পারফরম্যান্স রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। অন্যদিকে নদীয়া জেলা পরিষদে এখনও পর্যন্ত ৪১ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। সম্প্রতি পঞ্চায়েত দপ্তরের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জেলা পরিষদের ‘পুওর পারফরম্যান্স’ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক থেকে মন্ত্রী। জেলা পরিষদে কাজের অগ্রগতি আনার নির্দেশ দেওয়া নদীয়া জেলাকে। সেইমতো কয়েকদিন আগেই জেলা পরিষদে সকল সদস্য, কর্মাধ্যক্ষ, প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠক করেন।‌ তাতেই কাজে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। দেখ যাচ্ছে, জেলা পরিষদে মোট প্রায় ৬০টি কাজ নানা কারণে আটকে রয়েছে। যার মধ্যে তিরিশটির বেশি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেনি। সেইসব ক্ষেত্রে আবার জমি সমস্যাও রয়েছে। যার জন্য ঠিকাদাররা কাজ শুরু করতে পারেননি। বাকি কাজ টেন্ডার জটে আটকে রয়েছে। শুরু না হওয়া কাজ সোমবারের মধ্যে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ঠিকাদারদের। তারপরেও  কাজ শুরু না হলে, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, নদীয়া জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল নতুন নয়। কাজের জন্য ঠিকাদারদের তরফ থেকে মোটা টাকার ‘কাটমানি’ দেওয়ার অভিযোগে তুলেছিলেন খোদ শাসকদলের জেলা পরিষদ সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষরা। সম্প্রতি তা নিয়েও শোরগোল পড়েছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ