Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অর্ধেক মাস অতিক্রান্ত, জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগই নেই চুঁচুড়ায়

অর্ধেক মাস অতিক্রান্ত, জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগই নেই চুঁচুড়ায়
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: অর্ধেক মাস পেরিয়ে গেলেও মিটল না চুঁচুড়া পুরসভার সাফাই সঙ্কট। রবিবারও শহরে সাফাই করতে নামলেন না আন্দোলনকারী পুরকর্মীরা। পুরসভা ও প্রশাসন নির্বিকার। বিকল্প ব্যবস্থা করার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ দেখা গেল না তাদের তরফে। ফলে উৎসবের মুখে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা শহর। এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে। ১৫ দিন ধরে আবর্জনাময় শহরে থাকতে থাকতে নাগরিকদের সহ‍্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। সমালোচনার সুর শোনা গিয়েছে পর্যটক মহল থেকেও। শহরবাসীর সমস্যা মেটাতে পুরসভা উদাসীন কেন? তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। সমস‍্যার সমাধানের ইঙ্গিত দূরঅস্ত, পুর কর্তৃপক্ষের মুখে রবিবারও বাঁধাবুলির বাইরে কিছু শোনা যায়নি। 
Advertisement
রবিবার ব্যান্ডেল চার্চে ঘুরতে এসে চুঁচুড়া শহরে এসেছিলেন মালদহের বাসিন্দা পূরবী সরকার। তিনি বলেন, ১৫ দিন ধরে একটি শহর পরিষ্কার হচ্ছে না, এটি বিস্ময়কর ঘটনা। সরকার যেখানে নাগরিক পরিষেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে চুঁচুড়া ভিন্নপথে হাঁটছে। একটি ঐতিহ্যের শহরের এই অবস্থা মানা যায় না। সন্দেহ নেই, চুঁচুড়ায় একটি সার্বিক অব্যবস্থা চলছে। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, নানাভাবে আমি পুরসভার আয় বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আন্দোলনকারী কর্মীদের অসহযোগিতায় তা করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরকর্মীদের ভাতা দেওয়াও সম্ভব হয়নি। এদিন একটি অনুষ্ঠানে জলের গাড়ি পাঠানোর কথা ছিল। তার জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মীদের অসহযোগিতার কারণে সেখানে জলের গাড়ি পাঠাতে পারিনি। এখন ওই টাকা ফেরত দিতে হবে। ভাতার জন্য আন্দোলন, নাকি এর পিছনে কোনও চক্রান্ত, তা বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের কাছ থেকেও সহযোগিতা মিলছে না।
পুরকর্তা যাই বলুন না কেন, সমালোচনার সুর শোনা গিয়েছে নাগরিক মহল থেকেও। পুলিস লাইনের বাসিন্দা সুজন মণ্ডল, রথতলার বাসিন্দা সত‍্যেন্দ্রনাথ দাস বলেন, বেনজির ব্যর্থতা। কার দোষ, কে সঠিক, সে আলোচনা আমাদের কাছে মূল্যহীন। অর্ধেক মাস পেরিয়ে গেল, অথচ শহর থেকে জঞ্জাল সরানোর বিন্দুমাত্র উদ্যোগ নেই কারও। নাগরিকদের জীবন আবর্জনার পচা গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
বকেয়া ভাতা মেটানোর দাবিতে গত ১ ডিসেম্বর থেকে চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলনে নেমেছেন। সেদিন থেকেই বন্ধ হয়ে যায় শহরের সাফাই কাজ। দু’সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে গৃহস্থের বাড়ি সবই কার্যত আবর্জনায় ঢেকেছে। দুর্গন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মাছি, মশার তাণ্ডব। অথচ সমস্যা মেটাতে পুরসভা থেকে প্রশাসন, কারও হেলদোল নেই। ফলে, বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। মুখ পুড়ছে পুরসভার।
সম্পর্কিত সংবাদ