Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাট্টি গ্যাংয়ের ফান্ড গড়তে মাদক কারবার বৃদ্ধির নির্দেশ এসেছিল পাকিস্তান থেকে!

মাদক কারবারের মাধ্যমে সংগঠনের জন্য তহবিল জোগাড় করতে পাকিস্তান থেকে নির্দেশ এসেছিল ভাট্টি গ্যাংয়ের সদস্য হামিম মণ্ডলের কাছে।

ভাট্টি গ্যাংয়ের ফান্ড গড়তে মাদক কারবার  বৃদ্ধির নির্দেশ এসেছিল পাকিস্তান থেকে!
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাদক কারবারের মাধ্যমে সংগঠনের জন্য তহবিল জোগাড় করতে পাকিস্তান থেকে নির্দেশ এসেছিল ভাট্টি গ্যাংয়ের সদস্য হামিম মণ্ডলের কাছে। গেমিং অ্যাপের সূত্র ধরে তরুণদের কাছে মাদক পৌঁছানো ছিল তাদের লক্ষ্য, যাতে এই মাদক পার্টিতেই সেসব মোটা টাকায় বিক্রি হয়। হামিম ও আদিত্যর মোবাইল চ্যাট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেছিল অভিযুক্তরা। তাঁদের অপহরণ করে সংগঠনের জন্য মোটা টাকা হাতানোই ছিল গ্যাংয়ের পাখির চোখ। তাদের তালিকায় কারা ছিল? জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

Advertisement

ভাট্টি গ্যাং যে এরাজ্যে বেশ ভালোভাবেই শিকড় গেড়েছে, তা বেশ বুঝতে পারছেন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন জেলার ১৮-২৫ বছর বয়সি তরুণদের টার্গেট করেছে পাকিস্তানের এই জঙ্গি সংগঠন। একাধিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে। গ্রুপের সকলের হাতে রয়েছে দামি মোবাইল। সেখানে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশ আসছে। তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যেও। তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই জানার চেষ্টা  করছেন, এত বড়ো গ্যাং চালানোর জন্য তহবিল জোগাড় হচ্ছে কীভাবে? বিভিন্ন রাজ্যে ধরা পড়া ভাট্টি গ্যাংয়ের সদস্যদের চ্যাট ঘেঁটে জানা গিয়েছে, বেআইনি মাদক কারবার চালিয়ে টাকা রোজগারের  কথা বলা হয়। হামিম ও আদিত্যর মোবাইল চ্যাট বিশ্লেষণ করে একই তথ্য মিলছে বলে খবর। 
গোয়েন্দারা জেনেছেন, তাদের বলা হয়েছিল পাঞ্জাব ও দিল্লিতে থাকা ভাট্টি গ্যাংয়ের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেখান থেকে মাদক এনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। ভিন রাজ্যে এই গ্যাংয়ের মাথাদের তথ্য এখানকার গ্যাংয়ের সদস্যদের দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, পাঞ্জাব থেকে কুরিয়ার মারফত নিষিদ্ধ মাদক আসার কথা ছিল রাজ্যে। পাঞ্জাবে মাদক এসেছে পাকিস্তান থেকে। সেসব পাঠিয়েছে পাকিস্তানে বসে থাকা ভাট্টি গ্যাংয়ের মাথারা। এরপর অনলাইন গেমিংয়ের সূত্রে পরিচয় হওয়া অল্পবয়সি তরুণদের বলা হত বিভিন্ন জেলায় মাদক কারবারিদের কাছে এগুলি পৌঁছে দিতে। সেখান থেকে যে টাকা রোজগার হত তা পৌঁছাত হামিমের কাছে। এই টাকা সংগঠনের ‘লজিস্টিকাল সাপোর্টের’ জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। আর বাকি টাকা যেত, গ্যাংয়ের সঙ্গে নতুন যারা যুক্ত হয়েছে তাদের কাছে। সেই কারণেই বেআইনি মাদক কারবার বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছিল, বেআইনি ব্যবসার মাধ্যমে যাতে বিপুল পরিমাণ টাকা রোজগার করা যায়। এতে গ্যাং চালানোর খরচ তারাই জুটিয়ে নিত। 
কারা তাদের মাদক সরবরাহ করত ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ