


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সরকারি নাইট সার্ভিস বাস কি এবার জাল নোট কারবারের মাধ্যমে? এই প্রশ্নকে ঘিরে উদ্বেগ পুলিস সহ বিভিন্ন মহলে। বৃহস্পতিবারই আসানসোলে একটি এসবিএসটিসি বাসের মধ্যে থাকা পেটি থেকে ৫০০ টাকার ভুরি ভুরি জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। রীতিমতো লাগেজ টিকিট কেটে মালদহ থেকে ‘আম’ বোঝাই সেই পেটি তোলা হয়েছিল বলে এসবিএসটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই পেটি নামাতে গিয়েই গ্রেপ্তার হয়েছে পুরুলিয়া জেলার নিতুড়িয়া থানার বাসিন্দা রাজেন্দ্রপ্রসাদ যাদব। পুলিস তাকে জেরা করেই এই কারবারের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।
আসানসোল উত্তর থানার পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের পরও ভাবলেশহীন রাজেন্দ্র। পুলিসি জেরাই সে জানিয়েছে, ‘মালদহের আম খেতে মন চেয়েছিল। তাই অনলাইনে কুড়ি কিলো আম অর্ডার করেছিলাম। সেই আমের পেটি নামিয়ে আনছিলাম। তখনই পুলিস তল্লাশি শুরু করল। দেখলাম আমের পেটিতে টাকা।’ পুলিসের দাবি এমন ভাবখানা যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না রাজেন্দ্র। পুলিসের জেরায় মুখ না খোলা অভিযুক্তকে দাগী অপরাধী বলেই মনে করছে পুলিস। শুক্রবার তাকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। বিচারক ধৃতের ১০ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিস চাইছে, এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে জেরা করে পুরো চক্রের পর্দা ফাঁস করতে।
সেক্ষেত্রে পুলিসের নজরে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় পুরুলিয়ায় জেল বন্দি বিহারের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ওঙ্কর নাথ সিং ওরফে শেরুর সঙ্গে রাজেন্দ্রর যোগ। সদ্য পুলিস জেনেছে, শুধু খুন ডাকাতি নয় শেরু নাকি দেশে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ারও বরাত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই হাওড়া সিটি পুলিস তাকে এনিয়ে জেরা শুরু করছে। ঠিক সেই সময়েই পুরুলিয়ার বাসিন্দার মালদহ থেকে জাল নোট আনানোয় গ্রেপ্তার হওয়া হালকা ভাবে নিচ্ছে না পুলিস। এছাড়াও সাম্প্রতিকালে আসানসোল থেকে জাল নোট পাচার কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী প্রতাপ দাস থেকে মিমির নেতা দানিশ। তারপর আসানসোলেই সরকারে বাসে বিপুল টাকা উদ্ধার চিন্তায় ফেলেছে পুলিসকে। আসানসোলকে মাধ্যম করেই কী বাংলাদেশ থেকে দেশে টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা? খতিয়ে দেখছে পুলিস।