নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইছামতী নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা টাকির ‘বিতর্কিত’ দুই গেস্ট হাউস ভাঙার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে পুরসভাকে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। ঘটনার সূত্রপাত গত বছর শীতকালে। টাকি বেড়াতে গিয়ে ইছামতীর পাড়ে রাজবাড়ি ঘাটের কাছে নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা ‘টাকি সিটি’ ও ‘দিশা’ নামে দুই বিলাসবহুল গেস্ট হাউস নজরে আসে হাইকোর্টের দুই আইনজীবী চিন্ময় ঢালি এবং তন্ময় বসুর। তাঁদের উদ্যোগে পরে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পুরসভার নির্মাণবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই গেস্ট হাউস গড়ে তোলা হয়। তাজপুরের উদাহরণ টেনে আইনজীবীরা টাকির ক্ষেত্রেও অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান। মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে নদীর পাড়ে নির্মাণ হয়েছে বেআইনিভাবে। যদিও আদালতে টাকি পুরসভার তরফে দাবি করা হয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। পুরসভার আইনজীবী জানান, এলাকায় মোট ৫৭টি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে পুরসভার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, আর দেরি নয়। তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।



