নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পক্ষপাতিত্ব করছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এমনই অভিযোগে তাঁকে পদচ্যুত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বিরোধীরা। এই ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পাশে চান রাহুল গান্ধী। সেই মতো সোমবার তৃণমূলের লোকসভার দলনেতার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। বিশেষ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে সই করতে গররাজি তৃণমূল। কংগ্রেসকে বলা হয়েছে, স্পিকার যদি বিরোধীদের কথা মেনে নেয়, তাহলে আর এই মোশনের প্রশ্ন উঠবে না। আগে দেখা যাক মঙ্গলবার কী হয়, তারপর প্রস্তাবে সই করার বিষয়টি কনফার্ম করব।
এদিন বেলা দুটোর সামান্য পর লোকসভা মুলতুবি হয়ে যায়। স্পিকারের ঘরে যাওয়ার জন্য তৈরি হন রাহুল। সঙ্গে কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল। অভিষেকের পাশাপাশি ডিএমকের টি আর বালু, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবকেও যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তাঁরা সাড়াও দেন। অচলাবস্থা কাটানো নিয়ে স্পিকারের কক্ষে বিরোধী সাংসদের আধঘণ্টার উপর বৈঠক হয়। সভা চালাতে গেলে বিরোধীদের কিছু শর্ত মানতে হবে বলেই জানিয়ে দেন তাঁরা। যদিও স্পিকার কিংবা সরকার, সেই শর্ত আদৌ মানবে কি না, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ফলে আজও বাজেট নিয়ে আলোচনা অনিশ্চিত।
অনড় বিরোধীরা। অটল বিজেপিও। যার জেরে সোমবারও সমস্যার জট কাটল না। হল্লা, বিক্ষোভ, সরকার-বিরোধী বিবাদের জেরে মুলতুবি হয়ে গেল লোকসভা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে, খোদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেই পদচ্যূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি বিরোধীরা। তাঁর বিরুদ্ধে ‘মোশন ফর রিম্যুভাল’ আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব পত্রে সই সংগ্রহর কাজ শুরুও হয়েছে। যদিও এখনও ওই প্রস্তাবে সই করেনি তৃণমূল, শারদ পাওয়ারের এনসিপির মতো দল।
এদিন সকালে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক বসে। তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভায় দলের উপদলনেত্রী শতাব্দী রায়। স্পিকারকে পদচ্যূত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। চিঠিতে তৃণমূলকে সই করতে অনুরোধ করা হয়। শতাব্দী অবশ্য জানিয়ে দেন, আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী নই। দলের মতামত জেনে বলব। পরে অবশ্য কে সি বেণুগোপাল সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী বলেন, আমাদের মহিলা সাংসদরা নাকি প্রধানমন্ত্রীকে মারতে ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে গিয়েছিলেন বলেই স্পিকারের ইঙ্গিত। এই মন্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর সরকার যদি তাই মনে করে, তাহলে এফআইআর করছে না কেন? দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভের শাস্তি হিসেবে যে আটজন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। আমাকে লোকসভায় বলতে দিতে হবে। রাহুলের প্রশ্ন, গলওয়ান ইস্যুতে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানের প্রসঙ্গ তুললে আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বিজেপির নিশিকান্ত দুবে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন, তখন তাঁকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্পিকার পক্ষপাতিত্ব করছেন বলেই অভিযোগ করেছেন রাহুল।