• স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল এনজো স্তাইওলা। কতইবা বয়স তখন তাঁর? আট। আচকমা পিছন ফিরে দেখল পিছনে একটা বড় গাড়ি আসছে। সাইড দিতে চাইল এনজো। কিন্তু গাড়িটি গতি আরও কমিয়ে দিল। অনুসরণ করতে লাগল তাকে। একসময় গাড়ি থেকে নামলেন এক ভদ্রলোক। ধূসর চুল। বেশ সেজেগুজে রয়েছেন। প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার নাম কী?’ কোনও জবাব দিল না এনজো। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। ওই ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কথা বলতে পারো না?’ তখন মুখ খুলল এনজো। বলল, ‘বলতে ইচ্ছা করছে না।’ আসলে নাম না বলার কারণ অন্য। তার মা সবসময় বলতেন, অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা না বলতে। সাবধান থাকতে। উত্তর পেয়ে এনজোর পিছন পিছন বাড়ি চলে যান ওই ব্যক্তি। তাঁকে দরজায় দেখেই চিনে ফেলেন এনজোর মা-বাবা। তিনি পরিচালক ভিত্তোরিও ডি সিকা। ততদিনে ইতালিজুড়ে নামডাক হয়েছে তাঁর। এনজোর মা-বাবা তাঁর আতিথেয়তায় কোনও খামতি রাখলেন না। তবে বাড়ির টেবিলে বসেই তিনি প্রস্তাব দেন, এনজোকে পরের ছবির জন্য ভেবেছেন তিনি। খুদের অভিভাবক চাননি সে অভিনয় করুক। সে কারণে রাজি হননি তাঁরা। পরে এনজোর কাকা পরিচালকের স্টুডিওতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাকে। কোনও অডিশন ছাড়াই ছবিতে সুযোগ পান তিনি। কোন সিনেমা? ‘বাইসাইকেল থিভস’। এনজোই পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিল ব্রুনোর চরিত্রটি। ইতালির বুকে বাবা-ছেলের রসায়নের সেই গল্প বদলে দিয়েছিল সিনেমার রূপরেখা। সেই ছবি দেখেই অনুপ্রাণিত হন সত্যজিৎ রায়। কয়েকদিন আগেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন সেই খুদে এনজো। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।



