


রবি মুরুগন: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল। পহেলগাঁওয়ে পাক জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন সাধারণ মানুষ। তারই জবাবে গত ৭ মে বিশেষ অভিযান চালায় ভারত। ‘অপারেশন সিন্দুর’। এই অভিযানের নেপথ্যে ছিল এক বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযান রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। কারণ, এই হামলার ভৌগোলিক ব্যাপ্তি ছিল অতীতের চেয়ে একেবারে আলাদা। এই অভিযানে শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। লক্ষ্যস্থলগুলি ছিল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি, এই অভিযানের মাধ্যমে প্রযুক্তির ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্রুজ মিসাইল, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোর নিখুঁত ব্যবহার দেখা গিয়েছিল এই অভিযানে। শুধু বদলা নয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’ ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবে ভারত পালটা জবাব দিতে পারে, তার প্রদর্শন।
এই অভিযানের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তা হল, সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারীদের নিশানা করা। সেক্ষেত্রে লস্কর-ই-তোইবা, জয়েশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আর সেই অভিযানে সাফল্য পাওয়ার পরেই সেনা প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি, আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং অসামরিক ক্ষতি এড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। (লেখক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল)