


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: পহেলগাঁও হামলা। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পৈশাচিক আক্রমণে রক্তে ভিজে গিয়েছিল কাশ্মীরের বৈসরণ ভ্যালি। ২৬ ভারতীয়কে হত্যা করে জঙ্গিরা। ধর্ম জেনে বেছে বেছে খুন করা হয়েছিল পুরুষদের। একাধিক নারীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যায় গিয়েছিল এক মুহূর্তে। হানিমুনে যাওয়া এক সদ্য বিবাহিতা নারীও হারিয়েছিলেন তাঁর স্বামীকে। তাই সন্ত্রাসবাদের বদলা নিতে অভিনব মিশনের নাম দিয়েছিল ভারত সরকার—‘অপারেশন সিন্দুর’। পাক অধিগৃহীত কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতের বীর সেনারা। পাক সন্ত্রাসবাদের কোমর ভেঙে দেয় ভারত। সামনেই ১৫ আগস্ট। দেশের স্বাধীনতা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে এবার দেশজুড়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যার বিষয় ‘অপারেশন সিন্দুর’। উদ্যোগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। বিজয়ীদের মিলবে নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার। সঙ্গে দিল্লির রেড রোডে বসে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন দেখার সুযোগও।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিযোগিতা হচ্ছে অনলাইনে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে ‘মাইগভ’। মাইগভ ওয়েবসাইটে গিয়ে অংশ নিতে হবে। ১ জুন থেকে সাবমিশন শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অংশ নেওয়া যাবে। ১৬ জুলাই রাত ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৪৭ জন অংশ নিয়েছেন। এই উদ্যোগটি তরুণদের মন ও উৎসাহী নাগরিকদের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কাউন্টার টেররিজমে ভারতের যে প্রশংসনীয় ভূমিকা এবং কৌশল, সেইদিকটি তাঁরা অন্বেষণ করে তুলে ধরতে পারবেন। যিনি অংশ নেবেন, তাঁকে অবশ্যই ভারতীয় হতে হবে। ৫০০ থেকে ৬০০ শব্দের মধ্যে ওই প্রবন্ধ লিখতে হবে। প্রবন্ধে দেশের নিরাপত্তার পুনসংজ্ঞায়ন, যুব সমাজের ভূমিকা, বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সংহতির বিষয়কে তুলে ধরতে হবে। গাইডলাইন ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিনজন শীর্ষ বিজয়ীকে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শীর্ষ ২০০ অংশগ্রহণকারী এবং তাঁদের একজন সঙ্গী (স্বামী, স্ত্রী, অভিভাবক, আত্মীয় প্রভৃতি) ই-আমন্ত্রণপত্র পাবেন। তাঁরা আগামী ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। একজন নাগরিক হিসেবে যেটা বড় সম্মানের।