তেল আভিভ ও তেহরান: ১২ দিনের যুদ্ধে ইজরায়েলের হানায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ইরানের একঝাঁক শীর্ষ সেনা আধিকারিক ও পরমাণু বিজ্ঞানী। শনিবার তেহরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করল প্রশাসন। যদিও সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনেইকে সেখানে দেখা যায়নি। শেষযাত্রায় কালো পোশাকে মানুষের ঢল নেমেছিল রাজধানীর রাস্তায়।
যুদ্ধে ইতি টানার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইজরায়েলের অপারেশন রেড ওয়েডিং। অনেকেই এরসঙ্গে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ গেম অব থ্রোনসের একটি অংশের সঙ্গে যোগ খুঁজে পাচ্ছেন। সেখানে রাতের অন্ধকারে গোপনে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। অপারেশন নার্নিয়ার পাশাপাশি শুরু হয় অপারেশন রেড ওয়েডিং। সেদেশের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান জেনারেল ওদেদ বাসিউক জানিয়েছেন, আমরা যখন এই অভিযানের পরিকল্পনা করছিলাম, তখন এই সাফল্য নিয়ে দ্বিধা ছিল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা রাতারাতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল প্রস্তুতি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালায় হামাস। তারপর তাদের কার্যত মাটি ধরিয়ে দিয়েছে নেতানিয়াহুর দেশ। কোমর ভেঙে দিয়েছে হিজবুল্লারও। অন্যদিকে, সিরিয়াতেও ইরান মদতপুষ্ট সরকারের পতন ঘটে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক কর্তারা কখন কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তেল আভিভে পৌঁছতে শুরু করে। ২০২৪ সালে এপ্রিল ও অক্টোবর মাসে দু’বারে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষমতাও পরখ করে নেয় ইজরায়েল।
তার ভিত্তিতেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে নেতানিয়াহুর দেশ। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নভেম্বরে বৈঠক হয়। সেখানে গোয়েন্দা ও বায়ুসেনা আধিকারিক মিলিয়ে ১২০ জন উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই ২৫০ জনের হিটলিস্ট তৈরি করা হয়। আসরে নামে মোসাদও। লাগেজ, শিপিং কন্টেইনার, ট্রাকে গোপনে ড্রোন ও বিস্ফোরক ইরানে পাঠানো শুরু করেন গুপ্তচররা। রিমোটের মাধ্যমে সেইগুলিকে পরিচালনা করার প্রযুক্তিও পৌঁছে যায় ‘শত্রু’ দেশে। বিশেষজ্ঞরাও পরিচয় আড়াল করে হাজির হন ইরানে। ৯ জুন মেলে সবুজ সঙ্কেত। ইরানের সেনা আধিকারিকরা যাতে ঘুণাক্ষরে কিছু বুঝতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনামাফিক একটি ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু। জানান, ছেলের বিয়ের জন্য তিনি ছুটি নিচ্ছেন। যদিও তলে তলে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী, ছেলে কেউই তা জানতে পারেননি। এরমধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোলমালের ভুয়ো খবর রটিয়ে দেন ইজরায়েলের আধিকারিকরা। সবই পরিকল্পনা মতো চলছিল। হঠাৎ-ই কিছু একটা আঁচ করতে পারে ইরান। মোসাদ খবর দেয়, ইরানের সেনা আধিকারিকরা একটি গোপন স্থানে কৌশল নির্ধারণে একত্রিত হচ্ছেন। ফলে সকলকে একসঙ্গে খতম করার সুবর্ণ সুযোগ চলে আসে। সেইমতো শুরু হয় অপারেশন রেড ওয়েডিং। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স। টার্গেটে আছড়ে পড়ে মিসাইল। সফল অপারেশন।