রাঁচি: মাওবাদী মুক্ত দেশ গড়ার দিকে আরও একধাপ এগল নিরাপত্তা বাহিনী। ছত্তিশগড়ের পর ঝাড়খণ্ডেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিস ও আধাসেনা। সোমবার সকালে বোকারোর লালপানিয়া এলাকায় লুগু পাহাড়ে বাহিনীর সঙ্গে গুলিযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে আটজন মাওবাদীর। তাদের মধ্যে একজন হল কমান্ডার প্রয়াগ মাঝি ওরফে বিবেক। পুলিসের হিটলিস্টে থাকা বিবেকের মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। এদিনের অভিযানে আরও দুই নেতারও মৃত্যু হয়েছে। তারা হল অরবিন্দ যাদব এবং সাহেবরাম মাঝি। অরবিন্দের ২৫ লক্ষ এবং সাহেবরামের মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা। মাওবাদীদের ডেরা থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, গোপন সূত্রে বোকারোর লুগু পাহাড়ে মাওবাদীদের আনাগোনার হদিশ পাওয়া যায়। সেইমতো সিআরপিএফ, কোবরা এবং ঝাড়খণ্ড পুলিসের যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করে। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাহিনীর অস্তিত্ব টের পেয়ে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। একটা সময় মাওবাদীদের তরফে গুলি চালানো বন্ধ হয়ে যায়। জঙ্গল থেকে আটজনের দেহ উদ্ধার করেন জওয়ানরা। ঝাড়খণ্ডের ডিজিপি জানিয়েছেন, মাওবাদীদের ডেরা থেকে একটি একে-৪৭, একটি এসএলআর, আটটি দেশি বন্দুক এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ হতাহত হননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার বার্তা দিয়েছে। তারপর থেকে ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী অধ্যুষিত জেলাগুলিতে ব্যাপকভাবে অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত তিনমাসে ছত্তিশগড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪০ জন মাওবাদীর। পাশাপাশি শতাধিক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। ঝাড়খণ্ডের গিরিডি এবং বোকারো জেলায় বিবেকের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এদিন তার মৃত্যুতে ওই এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের একটি অধ্যায় শেষ হল বলে মনে করছে ঝাড়খণ্ড পুলিস।