Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনিয়মিত চিকিৎসক, বেহাল পরিকাঠামো, হেরামপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অব্যবস্থা নিয়ে সরব স্থানীয়রা

অনিয়মিত চিকিৎসক, বেহাল পরিকাঠামো, হেরামপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অব্যবস্থা নিয়ে সরব স্থানীয়রা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: দুপুর দুটোর আগেই বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের বহির্বিভাগের দরজা। চিকিৎসকই নাকি আসেন না নিয়মিত। হাসপাতালের আশপাশ আগাছায় ভরে গিয়েছে। ইসলামপুরের হেরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমনই হালের অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। একটা সময় ছিল যখন হেরামপুর ছাড়াও আশপাশের তেজসিংহপুর, পমাইপুর, বকুলতলা সহ একাধিক গ্রামের মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ভিড় জমাত। রোগী চিকিৎসকদের ভিড়ে গমগম করত হাসপাতাল চত্বর। বছর দশেকের বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে বেহাল হয়ে পড়ছে সেই হাসপাতাল। হাসপাতালে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব, চিকিৎসকের সংখ্যা ক্রমেই কমতে কমতে এখন শুধু বহির্বিভাগ চালু আছে। দুজন চিকিৎসক থাকলেও তাঁদের একজনকে ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়। বর্তমানে হেরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইনচার্জ ডাক্তার সুরাইয়া বেগম। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হাসপাতালের ওপিডি টাইম শেষ হওয়ার কথা দুপুর দুটোর দিকে। অথচ কোনওদিন তিরিশ মিনিট আগে, কোনওদিন আবার ঘণ্টাখানেক আগেও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
Advertisement
বৃহস্পতিবার ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, দুপুর দেড়টা বাজার আগেই হাসপাতালের মেন গেটে তালা ঝুলছে। পেছনের গেট দিকে ঢুকে হাসপাতালের এক ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, চিকিৎসকের কাজ থাকায় কিছুক্ষণ আগেই তিনি বেরিয়ে গিয়েছেন। যদিও রোগীদের একাংশের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই এমন হয়ে থাকে। তাঁদের আরও অভিযোগ, নিয়মিত আসেন না ওই চিকিৎসক। এদিকে পরিচর্যার অভাবে নোংরা আবর্জনা এবং আগাছায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে গোটা হাসপাতাল চত্বর। সূর্য ডুবতেই সেখানে বসছে মদের আসর। বাড়ছে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নিয়মিত আসেন না ওই চিকিৎসক। এলেও দুপুর দুটোর আগেই তিনি চলে যান। 
অপর এক বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালের চারপাশ নোংরা আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। চাইলেই তো পরিষ্কার করা যায়। অথচ সেদিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের।
রানিনগর ১ ব্লক বিএমওএইচ হাসানুল হাসিন বলেন, আগেও ওই চিকিৎসকের অনিয়মিত আসা নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছিল। তাঁকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। তারপরেও এই ধরনের অভিযোগ মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই মহিলা চিকিৎসক। তিনি বলেন, আমার নিয়মিত হাসপাতালে না যাওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক সময়ে আমিই যাই। বৃহস্পতিবার আমার কাজ থাকায় একটু আগে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। তবে প্রতিদিন হাসপাতাল সাড়ে ন’টা থেকে সোয়া একটা-দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের আউটডোর খোলা থাকে। আর আমিও রোগীদের খুব ভালোভাবে পরিষেবা দিয়ে থাকি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ