সংবাদদাতা, কান্দি: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্কুলের একমাত্র গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি গিয়েছে। এখন স্কুলের ঘণ্টা বাজাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। ঘর-বারান্দা সাফাই করা থেকে গ্রুপ-ডির সমস্ত কাজ করছেন অন্যান্য শিক্ষকরা। ঘটনাটি ভরতপুর-১ ব্লকের গয়সাবাদ অচলা বিদ্যামন্দিরের। সমস্যা সমাধানে স্কুল পরিচালন কমিটির সভার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষকরা।
১৯৪৭ সালে এই হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়। বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ মিলিয়ে বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৫০১জন। এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বরাবর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্লকের মধ্যে ভালো ফল করে। বর্তমানে স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১২জন। যদিও থাকার কথা ২২জন। কয়েকমাস আগেই তিনজন শিক্ষক বদলি হয়েছেন। ওই তিন শিক্ষকেরও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে স্কুলের একমাত্র জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষিকা অনন্যা ঘোষের। চাকরি হারিয়েছেন স্কুলের করণিক সুমিত লোহার এবং একমাত্র গ্রুপ-ডি কর্মী প্রকাশ মজুমদারও। গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি না থাকায় তার সরাসরি প্রভাব শিক্ষকদের মধ্যে পড়েছে। গ্রুপ-ডি কর্মীর সমস্ত কাজ করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। স্কুল সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘণ্টা বাজানোর কাজটি করছেন খোদ প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম। অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাসরুম সাফাই থেকে মিড ডে মিলের দেখাশোনা, ক্লাসে জল সরবরাহ করা সহ বিভিন্ন কাজ করছেন। এমনকী, স্কুলের পিওনের কাজও করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। প্রধান শিক্ষক বলেন, গ্রুপ-ডি কর্মীর কাজ নিজেদের করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। আমাকেই স্কুলের ঘণ্টা বাজাতে হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন কাজ ভাগ করে নিয়েছেন। এখন পরবর্তী পরিচালন কমিটির সভা না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। পরিচালন কমিটির সিদ্ধান্তের দিকেই সকল শিক্ষক তাকিয়ে রয়েছেন।
স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শবনম সুলতানা বলে, শিক্ষকদের ঝাড়ু হাতে দেখে আমাদেরও খারাপ লাগছে। আমরা সাহায্য করতে গেলে তাঁরা আমাদের পড়াশোনায় মন দিতে বলছেন। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আদনান শেখ বলে, সবচেয়ে দুঃখ লাগছে, প্রধান শিক্ষক মহাশয়কে স্কুলের ঘণ্টা বাজাতে দেখে। আবার উনি সকালে স্কুল খুলছেন। ছুটির সময়ও গেট খুলে দিচ্ছেন। খুবই খারাপ লাগছে। এমনটা কতদিন চলবে কে জানে!