শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: চলতি সেশন থেকেই সেল্ফ ফিন্যান্স বিএড কলেজে বায়োমেট্রিক হাজিরা আবশ্যিক করেছে সরকার। তবুও সকাল সাড়ে ১১টায় সেল্ফ ফিন্যান্স বিএড কলেজে ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে উপস্থিত মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। কলেজে পরিদর্শক দল হাজির হওয়ার পর জরুরি ফোন গেল আশপাশে থাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছে। তড়িঘড়ি করে কলেজে পৌঁছালেন আরও সাত জন। মোট উপস্থিতি ১১। বুধবার কাঁথি গিমাগেড়িয়ার একটি সেল্ফ ফিন্যান্স বিএড কলেজে এই চিত্র ধরা পড়ে। বিএড এবং ডিএলএড কোর্সে শিক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা আবশ্যিক করা হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের উপস্থিতির এই ছবি আদৌ বদলেছে কি না, তা যাচাই করতে জেলায় জেলায় উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে দল গঠন করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম পাঁচটি দল গঠিত হয়েছে। তারমধ্যে একটি দলে রয়েছেন কাঁথি পিকে কলেজের অধ্যক্ষ অমিতকুমার দে এবং দেশপ্রাণ কলেজের অধ্যক্ষ সুবিকাশ জানা। বুধবার ওই দু’জন প্রথমে কাঁথি-১ ব্লকের অধীন গিমাগেড়িয়ায় একটি বিএড কলেজে যান। সেখানে উপস্থিতির করুণ ছবি প্রকাশ্যে আসে। এরপর তাঁরা যান ভগবানপুর-২ ব্লকের নাজিরবাজারে অবস্থিত আরও একটি বিএড এবং ডিএলএড কলেজে। সেখানকার ছবি আরও খারাপ। রাজ্যব্যাপী বিএড এবং ডিএলএড কলেজে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। উপস্থিতি ছাড়াও পরিকাঠামো, পঠনপাঠন, লাইব্রেরি, রেকর্ডস, হস্টেল সহ যাবতীয় বিষয়ে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা পড়বে। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম মোট পাঁচটি দল গঠন করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় মোট ৪৮টি দল গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ওই দল হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু হওয়ার পরও উপস্থিতির বেহাল ছবিটা এখনো বদলায়নি। জানা গিয়েছে, নাজিরবাজারে ওই কলেজ ক্যাম্পাসে বিএড এবং ডিএলএড কোর্স পড়ানো হয়। এদিন পরিদর্শক টিম পৌঁছানোর পর দেখা যায়, বিএডে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সেকেন্ড এবং ফোর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষার নোটিস চলে আসায় শিক্ষার্থীরা কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর, ওই ক্যাম্পাসে ডিএলএডে ৫০জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে হাজির মাত্র তিনজন। আর উপস্থিত কর্মীর সংখ্যা ছয়।



