রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: কলকাতা সহ শহরাঞ্চলের মানুষের কাছে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব ও বাইক পরিষেবা নতুন কিছু নয়। স্মার্টফোনে কয়েকবার আঙুল ছোঁয়ালেই বাড়ির সামনে চলে আসছে চারচাকা গাড়ি বা বাইক। দ্রুত পৌঁছে দিচ্ছে গন্তব্যে। অটোর ক্ষেত্রেও এবার তেমনই পরিষেবা মিলতে চলেছে। নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে দুয়ারে ডেকে নেওয়া যাবে অটো। আপাতত কলকাতা সংলগ্ন শহরাঞ্চল বা বৃহত্তর কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবহণ সংক্রান্ত একাধিক বেসরকারি সংস্থা এই পরিষেবা চালু করতে চেয়ে রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তরে আবেদন করেছে। তার ভিত্তিতে সম্প্রতি বৃহত্তর কলকাতার বেশ কিছু অটো ইউনিয়ন, পুলিস সহ বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক করে পরিবহণ দপ্তর। সেখানেই ‘দুয়ারে অটো’র পাইলট প্রজেক্ট শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর। তবে এক্ষেত্রে ইউনিয়নগুলির মতামত ও স্থানীয় পুলিস-প্রশাসনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে। পরিকাঠামোগত কিছু প্রস্তুতির জন্য কয়েকমাস সময় লাগবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলায়ও শুরু হবে এই পরিষেবা।
পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী রবিবার বলেন, ‘গোটাটাই এখন পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। প্রযুক্তিকে আমরা ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে চাই। যাত্রী বা চালক, কাউকেই আর হন্যে হয়ে অপেক্ষা করতে হবে না।’ কয়েক বছর আগেও অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের অনেক অভিযোগ আসত। ‘যাত্রীসাথী’ অ্যাপ চালু হওয়ার পর সেই অভিযোগ অনেকটা কমেছে। সেই সূত্রে আগামী দিনে অটো পরিষেবা ‘যাত্রীসাথী’র আওতায় আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, সরকারি ও বেসরকারি বাসের ভাড়া রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু অটো ভাড়ায় লাগাম টানার কোনও সুযোগ নেই রাজ্যের। প্রশাসন সূত্রে খবর, অটো পরিষেবা অ্যাপের আওতায় চলে এলে অর্থদপ্তরের অনুমোদনক্রমে ভাড়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পরিবহণ দপ্তর। ফলে যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা অনুযায়ী ভাড়ার হার ঠিক করার একটি ক্ষেত্র অন্তত তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন অটো চলে নির্দিষ্ট রুটে। অ্যাপের আওতায় এলে এ নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অ্যাপভিত্তিক পরিষেবায় অটোগুলির জন্য ‘জিও-ফেন্সিং’ করা হবে। অর্থাৎ, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অটোর গতিবিধি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হবে। আপাতত অটোর রুটগুলি চালু থাকছে। এখন পরিকল্পনার ভালো-মন্দ, সমস্যা-সম্ভাবনার দিকগুলি খতিয়ে দেখছেন আমলারা। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের কতটা বাড়তি সুবিধা হয়, সেটাই দেখার।