নিজস্ব প্রতিনিধি, পিংলা: পড়ার ঘরে আলমারিতে সাদা কাগজ সাঁটানো। তাতে লেখা, ইউপিএসসি। অর্থাৎ ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন। এই পরীক্ষা দিয়ে আইপিএস হওয়ার স্বপ্ন দেখত পিংলা থানার নাড়াথা গ্রামের এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভম দুয়ারি। কিন্তু, শনিবার মাধ্যমিকে অঙ্ক পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গের হতাশা গ্রাস করেছিল তাকে। রবিবার সকালে শুভম মাকে মর্নিংওয়াকে যেতে বাধ্য করে। তারপর ঘরের সামনে ও পেছনের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে খিল তুলে পড়ার ঘরে আত্মঘাতী হয় সে। সিলিং ফ্যানে মায়ের শাড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শুভম আত্মহত্যা করে। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই আশপাশ এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ তার বাড়িতে হাজির হন। চাপা স্বভাবের ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর এরকম একটি সিদ্ধান্ত কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
Advertisement
রবিবার সকাল সওয়া ৬টা। শুভম দুয়ারির মা সুমিত্রাদেবী প্রাতর্ভ্রমণ সেরে ফেরার পর বাড়ির দু’দিকের দরজা লাগানো দেখে অনুমান করেন, ছেলে সম্ভবত প্রতিবেশী কারও বাড়িতে গিয়েছে। ছেলের খোঁজে পাড়া প্রতিবেশী দু’-চারজনের বাড়িতেও যান। কোথাও ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসেন। দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখে খটকা লাগে। প্রতিবেশী দু’-তিনজন এসে শাবল দিয়ে পিছনের দরজার ছিটকিনি কোনওরকম খুলে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়েন। শুভম নিজের পড়ার ঘরের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ করার পর খিল তুলে দিয়েছিল। সেই দরজা কোনওরকমে একটু ফাঁক করতেই তার ঝুলে থাকা দুই পা নজরে পড়ে। এরপরই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, সব শেষ। পিংলা থানার বাগনাবাড় হাইস্কুল থেকেই এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছিল শুভম। ওই স্কুল থেকে এবার মোট ১২৩ জন মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। স্কুলে শুভমের রোল নম্বর ছিল ১৮। ক্লাসে পড়াশোনার মাঝারি গোছের ছিল। কিন্তু, তার লক্ষ্য ছিল অনেক উঁচুতে।
বাবা মধুসূদন দুয়ারি খড়্গপুরে একটি কারখানায় কাজ করেন। কর্মসূত্রে সেখানেই থাকেন। রবিবারও তিনি নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। দম্পতির দুই ছেলেমেয়ে। একমাত্র দিদি অন্ধ্রপ্রদেশে একটি নার্সিং কলেজে বিএসসি পড়ছেন। বাড়িতে মা সুমিত্রাদেবী ও শুভম ছিল। গ্রামের ঢালাই রাস্তার পাশে তাদের দোতলা পাকাবাড়ি, আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরিণতিতে শোক বিহ্বল গোটা এলাকা। ছেলের আত্মঘাতীর খবর পেয়ে এদিন সকালে বাড়িতে এসে পৌঁছন মধুসূদনবাবু। শুভমের আত্মহত্যার খবর জানাজানি হতেই আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর লোকজন ভিড় করেন। মধুসূদনবাবু বলেন, ছেলেকে কখনও পড়াশোনা নিয়ে চাপ দিতাম না। প্রায় সবক’টি বিষয়ে টিউশন ছিল। প্রথম দু’টি পরীক্ষার পর আমি বাড়িতে এসে দেখা করে গিয়েছি। ভালো করে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলেছি। অঙ্ক পরীক্ষার পর ফোনে জানিয়েছিল, আশানুরূপ পরীক্ষা হয়নি। আমি বাকি পরীক্ষাগুলি ভালো করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেবে ভাবতেও পারিনি। ছেলে ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতে আইএএস, আইপিএস অফিসার হতে চেয়েছিল। পড়ার ঘরে আলমারিতে সাদা কাগজে ইউপিএসসি লিখে সেটি সাঁটিয়ে রেখেছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষা আশানুরূপ না হলেও কেরিয়ার গড়ার জন্য ভবিষ্যতে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। সেই কথাটা বলার সুযোগ পেলাম না, এটাই আফশোস।
বাগনাবাড় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোককুমার দে নাথ বলেন, শুভম মাঝারি মেধার ছাত্র ছিল। শান্ত স্বভাবের ওই ছাত্র এরকম একটি ঘটনা ঘটাবে কল্পনাও করতে পারিনি। এদিন আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা বাড়িতে গিয়েছিলেন। নিহত ছাত্রের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।বাবা মধুসূদন দুয়ারি খড়্গপুরে একটি কারখানায় কাজ করেন। কর্মসূত্রে সেখানেই থাকেন। রবিবারও তিনি নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। দম্পতির দুই ছেলেমেয়ে। একমাত্র দিদি অন্ধ্রপ্রদেশে একটি নার্সিং কলেজে বিএসসি পড়ছেন। বাড়িতে মা সুমিত্রাদেবী ও শুভম ছিল। গ্রামের ঢালাই রাস্তার পাশে তাদের দোতলা পাকাবাড়ি, আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরিণতিতে শোক বিহ্বল গোটা এলাকা। ছেলের আত্মঘাতীর খবর পেয়ে এদিন সকালে বাড়িতে এসে পৌঁছন মধুসূদনবাবু। শুভমের আত্মহত্যার খবর জানাজানি হতেই আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর লোকজন ভিড় করেন। মধুসূদনবাবু বলেন, ছেলেকে কখনও পড়াশোনা নিয়ে চাপ দিতাম না। প্রায় সবক’টি বিষয়ে টিউশন ছিল। প্রথম দু’টি পরীক্ষার পর আমি বাড়িতে এসে দেখা করে গিয়েছি। ভালো করে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলেছি। অঙ্ক পরীক্ষার পর ফোনে জানিয়েছিল, আশানুরূপ পরীক্ষা হয়নি। আমি বাকি পরীক্ষাগুলি ভালো করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেবে ভাবতেও পারিনি। ছেলে ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতে আইএএস, আইপিএস অফিসার হতে চেয়েছিল। পড়ার ঘরে আলমারিতে সাদা কাগজে ইউপিএসসি লিখে সেটি সাঁটিয়ে রেখেছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষা আশানুরূপ না হলেও কেরিয়ার গড়ার জন্য ভবিষ্যতে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। সেই কথাটা বলার সুযোগ পেলাম না, এটাই আফশোস।



