Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাফরাবাদে বাবা-ছেলে খুনে গ্রেপ্তার আরও এক, সামশেরগঞ্জে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৯০

জাফরাবাদে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও এক দুষ্কৃতী। রাজ্য পুলিসের এসটিএফ শনিবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থেকে গ্রেপ্তার করে জিয়াউল হককে।

জাফরাবাদে বাবা-ছেলে খুনে গ্রেপ্তার আরও এক, সামশেরগঞ্জে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৯০
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: জাফরাবাদে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও এক দুষ্কৃতী। রাজ্য পুলিসের এসটিএফ শনিবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থেকে গ্রেপ্তার করে জিয়াউল হককে। তার বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার শুলিতলা এলাকায়। গত ১২ এপ্রিল এলাকায় তাণ্ডব চালানোর পরেই 

Advertisement

বেশ কয়েকজন কিশোর ও যুবক উত্তর দিনাজপুরে গা ঢাকা দেয়। এমনই খবর পেয়ে পুলিস তাদের খোঁজ শুরু করে। শনিবার রাতে এসটিএফের একটি দল অভিযান চালিয়ে জিয়াউলকে ইসলামপুর পুলিস জেলার চোপড়া থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিটের আধিকারিকরা। জিয়াউল ছাড়াও হিংসার ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত মোট ২৯০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলেই জানিয়েছেন জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায়। এছাড়াও বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের সঙ্গে শাসকদলের এক নেতার যোগাযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। পুলিস  সুপার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৩৮টি মামলা দায়ের হল। জাফরাবাদের খুনের ঘটনায় জিয়াউলকে ইসলামপুর পুলিস জেলার চোপড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১২ এপ্রিলের পর থেকে আর কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। উপদ্রুত এলাকার ১০০ জনের বেশি মানুষ ঘরে ফিরেছে। প্রসঙ্গত, ১১ ও ১২ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলে হিংসা। রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সামশেরগঞ্জে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তারপর কেটে গিয়েছে এক সপ্তাহ। পরিস্থিতি শান্ত হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। প্রত্যেকেই চাইছেন, এই তাণ্ডবের সঙ্গে যুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
লাগাতার ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিস। এডিজি আইন-শৃঙ্খলা জাভেদ শামিম ও দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার প্রত্যয়ের সঙ্গে আগেই জানিয়েছেন, হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। নৃশংসভাবে বাবা-ছেলেকে খুনের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। ১১ সদস্যের ওই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিআইজি মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। এসটিএফের সদস্যরাও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছেন। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও বেশ কিছু তথ্য মিলেছে বলেই দাবি। গণ্ডগোলের পর থেকে জঙ্গিপুর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অভিযুক্তরা সরাসরি ফোনে কথা বলছে। স্থানীয় কার কার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে, মোবাইলের সিডিআর নিয়ে সেই সমস্ত তথ্যও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। সেই সূত্র ধরেই আগামী কয়েক দিনে এই হামলার পিছনে থাকা কয়েকজন ‘মাথা’ গ্রেপ্তার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ