সংবাদদাতা, কান্দি: বিয়ের রাতেই সন্দেহ, অবিশ্বাসের বাতাবরণ। যার জেরে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে ছাড়াই বাড়ি ফিরে এলেন বর। আর কনেকে গোপন জবানবন্দি দিতে যেতে হল আদালতে। সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে মোবাইলে আসা একটি মেসেজ।
সংবাদদাতা, কান্দি: বিয়ের রাতেই সন্দেহ, অবিশ্বাসের বাতাবরণ। যার জেরে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে ছাড়াই বাড়ি ফিরে এলেন বর। আর কনেকে গোপন জবানবন্দি দিতে যেতে হল আদালতে। সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে মোবাইলে আসা একটি মেসেজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বড়ঞা থানা এলাকার একটি গ্রামে বসেছিল বিয়ের আসর। পাত্রের বাড়ি বীরভূমে। মাস দুয়েক আগেই দু’ পক্ষের মধ্যে দেখাশোনা করে বিয়ের দিন ঠিক হয়। সেই অনুযায়ী ওই রাতে পাত্রীর বাড়িতে বসে বিয়ের আসর। লগ্ন অনুযায়ী ঠিক সময়ে বর সহ বরযাত্রীরাও চলে এসেছিলেন। বরযাত্রী সহ গ্রামের নিমন্ত্রিতরা মনপ্রাণ ভরে খাওয়া দাওয়া করেন। চারিদিকে উৎফুল্ল মেজাজে আত্মীয়স্বজনরা ঘোরাঘুরি করছেন। বরকে ঘিরে চলছে ইয়ার্কি ঠাট্টা। যেমন হয় বিয়েবাড়িতে। কিন্তু তখনও কেউ বুঝতে পারেননি এই বিয়ের পরিণতি হবে এত করুণ।
বিয়ের লগ্ন ছিল রাতে। তাই শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ সাত পাক ঘোরা থেকে স্ত্রীর কপালে সিঁদুর দান ইত্যাদি শেষে বিয়ে সুসম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা করেন পুরোহিত। এরপর নবদম্পতি বাসরঘরে যান বিশ্রাম নিতে। তখনই বরের মনে খটকা লাগে। তিনি ‘ঘুমোতে যাচ্ছি’ বলে বাসরঘর থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু, মিনিটখানেক পরই ফিরে আসেন। বাসরঘরে ঢুকেই দেখেন, কনে মোবাইলে মগ্ন। কারও সঙ্গে ‘চ্যাট’ করছে। সন্দিহান বর সঙ্গে সঙ্গে ‘স্ত্রী’-র মোবাইল প্রায় ছিনিয়ে নেন। মেসেজ চেক করেন। পাত্রপক্ষের দাবি, একটি মেসেজ দেখার পরই থমকে যান বর। শুরু হয় ঝামেলা,তর্ক বিতর্ক, ঝগড়া। পরিবারের হস্তক্ষেপেও সমস্যা মেটে না। তখন বর ও কনে সহ উভয়পক্ষই সোজা বড়ঞা থানায় হাজির হন।
শুক্রবার সকাল থেকেই দু’ পক্ষের লোকজন থানা চত্বরে বসে বারবার মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, কোনও সময় বর, আবার কোনও সময় কনে বেঁকে বসেন। কনের বক্তব্য, যাঁকে নিয়ে সারা জীবন কাটাতে হবে তিনি মোবাইলে আসা একটি মাত্র মেসেজের জন্য এমন কাণ্ড ঘটাবেন, তা মানতে পারছি না। তাই বিয়ে হলেও স্বামীর ঘর করতে পারব না। অন্যদিকে বরও ওই মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। বরের দাবি, তাঁর কাছে অনেক কিছুই গোপন করা হয়েছে। মেসেজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করায় কনে উত্তর দেয়, এরপর বাড়ি নিয়ে গেলে বিষ খাব। তাই বিয়ে হলেও সংসার করা সম্ভব নয়। শেষপর্যন্ত শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ বর স্ত্রীকে না নিয়েই বাড়িতে ফিরে যান। পুলিসের পক্ষ থেকে কনেকে বিয়ের সাজেই জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয় কান্দি মহকুমা আদালতে। কনের বক্তব্য শোনার পর তাঁকে হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এদিকে, বিয়েকে কেন্দ্র করে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে উভয়পক্ষের মোট ছ’জনকে পুলিস আটক করে।