Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্ডাল-সাঁইথিয়া রেলপথে আন্ডারপাসগুলিতে বছরভর জমে থাকে জল, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা

অন্ডাল-সাঁইথিয়া রেলপথে আন্ডারপাসগুলিতে বছরভর জমে থাকে জল, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া:  বৃষ্টি নেই, তা সত্ত্বেও রেলের আন্ডারপাসগুলি ছোটখাটো পুকুর হয়ে রয়েছে। অভিযোগ, রেলের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। রেল গেটে যাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়, সে কারণে আন্ডারপাস তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই আন্ডারপাসই এখন যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই আন্ডারপাসগুলিতে বছরভর জল দাঁড়িয়ে থাকে। অন্ডাল-সাঁইথিয়া রেল লাইনের মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্ডারপাস তৈরি করে রেলদপ্তর। কিন্তু আন্ডারপাস তৈরি করেই দায় সেরেছে রেল। জল জমলে তা দ্রুত বের করার উদ্দেশ্যে আন্ডারপাসগুলিতে একটি করে পাম্প লাগানো হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে পাম্পগুলি খারাপ হয়ে থাকে। যে কারণে বৃষ্টি না হলেও মাঠের জলে প্রায় সারাবছর ছোটখাটো পুকুর হয়ে থাকে আন্ডারপাস। সিউড়ির জিবধরপুরে একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করে রেল। যা এই শীতেও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এক বাইক আরোহী স্বপন বাগদি বলেন, বৃষ্টি না হলেও সারা বছর এই আন্ডারপাস জলের তলায় থাকে। এবছর এখনও বৃষ্টি হয়নি তবুও মাঠের জলে কার্যত নদীতে পরিণত হয়েছে আন্ডারপাস। ছোট গাড়ি নিয়ে যেতে খুব অসুবিধা হয়। রাতের অন্ধকারে গর্ত ঠিকমতো বোঝা যায় না। অনেক সময় গাড়ি উল্টে জলে পড়ে যান অনেকে। আশেপাশের গ্রামের সকলেই আন্ডারপাস এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সাইকেল বা গাড়ি নিয়ে রেললাইনের উপর দিয়েই পারাপার করে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, বছরের পর বছর এভাবে চললেও আন্ডারপাসগুলি ঠিক করার কোনও উদ্যোগ নেয় না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এদিকে আন্ডারপাস চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রেলগেট। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তৈরির সময়ে রেলের তরফে জানানো হয়েছিল, আন্ডারপাসে জল নিকাশির জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা রাখা হবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সার। বৃষ্টি না হলেও আশেপাশের জমি থেকে জল এসে জমা হয় আন্ডারপাসে। এছাড়াও সদাইপুরের কচুজোড় গ্রামে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়। সেটিরও কার্যত একই অবস্থা। এই আন্ডারপাসে জল জমে থাকার কারণে প্রায় বছর দুই -তিন আগে রেল অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। তারপর সাময়িক রেহাই পান তারা। অন্যদিকে, দুবরাজপুর ব্লকের নীলনির্জন জলাধার যাওয়ার আগে রেলের একটি আন্ডারপাস রয়েছে। যার পরিস্থিতি বাকি আন্ডারপাসগুলির থেকেও খারাপ। জল জমে বেশ কয়েক জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই গর্তে জল জমে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাঁদের দাবি, স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসন— সবাইকে জানানো হলেও এখনও কোনও সদুত্তর মেলেনি। পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেন, দু’-তিনটে আন্ডারপাস চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে টেন্ডার করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে জুন মাসের মধ্যে সংস্কার শেষ করা সম্ভব হবে। 
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ