নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অমাবস্যার রাতে গাঢ় অন্ধকার নেমে এসেছে ধাত্রীগ্রামের গ্রাম কালনায়। সন্ধ্যার পর থেকেই অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা বিচরণ করছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিস্তব্ধতাও যেন বাড়ছে। কিছুটা দূরেই শ্মশান। খাঁ খাঁ করছে চারদিক। ঠিক এমন সময় কেমন যেন অদ্ভুত এক ডাক শুনতে পান গ্রামের যুবক। কেউ যেন অন্ধকারের আড়াল থেকে তাঁকে ডাকছে। সেই ডাক উপেক্ষা করে আর ঘরে থাকা যায় না। যেভাবেই হোক বাইরে বেরিয়ে আসতেই হবে। যাঁর গলার স্বর শোনা যাচ্ছে, তিনি যে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর কাছে যেতেই হবে। তবে, সেখানে পৌঁছানোর একটাই রাস্তা। সেটা হল আত্মহত্যা! গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে।
এমনই এক ‘মায়াবী ডাক’ পেয়ে আট বছর আগে জয় দাস নামে এক যুবক একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ওই যুবকের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর দুই বন্ধুও নাকি শুনতে পান অদ্ভুত ডাক। স্বর্গে তিনি নাকি একা থাকতে পারছিলেন না। তাই দুই বন্ধুকে ডাকতে থাকেন। অমাবস্যার রাতেই সেই ডাক তাঁদের কানে নাকি আরও বেশি করে আসছিল! অদ্ভুতভাবে আর এক অমাবস্যার রাতে জয়ের বন্ধু জয়ন্ত দাসের ঝুলন্ত মৃতদেহ ঘর থেকে উদ্ধার হয়। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে অনেক অমাবস্যা। ওপার থেকে সেই ডাক এখনো যেন শোনা যাচ্ছিল। জয়ের আর এক বন্ধু শশী পাণ্ডের কাছে সেই ডাক বারবার আসছিল। সেই কারণে তিনি অন্য রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে চলে যান। ১০দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। তারপরই বাড়ির কাছে ১৭ ফেব্রুয়ারি গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের লোকজনরা বলেন, বাড়িতে কোনো অশান্তি ছিল না। রাতে খাওয়ার পর শশী ঘুমাতে যান। পরে বাড়ির কাছেই তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
এআইয়ের এই যুগেও এসব কীভাবে হচ্ছে, তা জানতে বিজ্ঞান মঞ্চ গ্রামে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপরও তৃতীয়জনের অপমৃত্যু আটকানো যায়নি। বিজ্ঞান মঞ্চের তরফে আশুতোষ পাল বলেন, গ্রামের লোকজনদের অনেকেরই পরজন্ম নিয়ে বিভিন্ন ধারণা আছে। সেই ধারণাতেই তাঁরা বারবার এই কাণ্ড করছেন। ওঁরা নাকি প্রেতাত্মার ডাক শুনতে পান। বিজ্ঞানের এই যুগে সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত বাগ বলেন, অমাবস্যার রাত স্থানীয়দের কাছে দুঃস্বপ্নের। গ্রামে তিন যুবকের অপমৃত্যু হয়েছে। ওঁরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনজনই অমাবস্যার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। এখান থেকে শহর মাত্র আট কিলোমিটার দূরে। গ্রাম কালনার যুবক-যুবতীদের হাতে রয়েছে স্মার্টফোনও। তারপরও অমাবস্যার রাতে গাঢ় অন্ধকারে অদ্ভুত এক ডাক ভেসে আসে গ্রামে। সেটা প্রেতাত্মা নাকি মনের ভুল, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।