গনি খানের জন্ম শতবর্ষে কোতোয়ালিতে কৃষ্ণেন্দু, কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, মালদহ: গনি খানের জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠানে কোতোয়ালিতে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। বরকত সাহেবের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মৃতিচারণ করলেন মঞ্চে। আর এরই ফাঁকে গনি পরিবারের দুই সদস্য দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী ও প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নূরের সঙ্গে একান্ত আলোচনাও সারলেন। যা আরও উসকে দিল কৃষ্ণেন্দুর কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা। যদিও ঈশার দাবি, কৃষ্ণেন্দু আমাদের পারিবারিক বন্ধু। তিনি এখনও কংগ্রেসে ফেরার ব্যাপারে ইচ্ছাপ্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, কৃষ্ণেন্দুর বক্তব্য, আমার রাজনৈতিক জীবনে গনি খানের অনেক বড়ো অবদান আছে। তিনি চিঠি লিখে না দিলে আমি প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটই হয়তো পেতাম না। রাজনৈতিক পরিসরে আমি যতটুকু করতে পেরেছি, তার পিছনে বরকত দা’র হাত আছে। যদিও তাঁর বক্তব্য, আমি এখন তৃণমূলে নেই। আগামী দিনে রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা সময় হলেই দেখতে পাবেন। এর আগেও গনি খানের জন্মদিনে তিনি কোতোয়ালিতে এসেছেন বলে দাবি কৃষ্ণেন্দুর। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী প্রয়াত গনি খানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে এদিন সকাল থেকে একাধিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কোতোয়ালিতে। গনি পরিবার ও জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির কেউ গনির জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। জন্ম শতবর্ষে গনিকে শ্রদ্ধা জানাতে সিপিএম নেতাদের কোতোয়ালিতে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত তাঁদের কেউ সেখানে যাননি। তবে ইংলিশবাজার শহরের রথবাড়ি মোড়ে গনি খানের মূর্তিতে মালা দেন সিটুর জেলা সম্পাদক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেবজ্যোতি সিনহা। সিপিএমের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক তথা দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অম্বর মিত্র বলেন, গনি খানের জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সোমবার পার্টির দুটি জনসভার প্রস্তুতি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলাম আমরা যে, কোতোয়ালিতে যেতে পারিনি। 

Advertisement

গনির জন্ম শতবর্ষকে সামনে রেখে একদিকে যখন কংগ্রেস মালদহে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছে, তখন আগামী পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বার্তা দিয়েছে সিপিএম। তাদের ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক সময়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে বলে এদিন জানিয়েছেন দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ঈশা। 
এদিন কোতোয়ালিতে স্মরণসভায় গনি খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন কৃষ্ণেন্দু। একসময় বরকত সাহেবের অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। পরে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। রাজ্যের মন্ত্রী হন। কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলিয়ে ইংলিশবাজার পুরসভার পাঁচবারের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন কৃষ্ণেন্দু। জানিয়ে দেন, ওই দলের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে এবার কৃষ্ণেন্দু কোন দলে যোগ দেন, সেদিকেই তাকিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহল। 
এদিন অবশ্য গনি খানের জন্ম শতবর্ষকে সামনে রেখে কোতোয়ালি পরিবারের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা সামনে এসেছে, তাতে জল্পনা, কৃষ্ণেন্দু কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন কবে? বাবলা সরকারের স্ত্রী ইংলিশবাজারের তৃণমূল কাউন্সিলার চৈতালি সরকার, তৃণমূলের টিকিটে জেতা মালদহ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ফজলুল হক এদিন কোতোয়ালিতে ছিলেন।