Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রবীণাদের কোলে বসে ধুনো পোড়ানো হয় অষ্টমীতে, বারাসতে দক্ষিণপাড়ার শিব কোঠা

জেলা সদর শহর বারাসতে কালীপুজো বিখ্যাত হলেও বেশ কয়েকটি বনেদিবাড়ির দুর্গাপুজোও নজর কাড়ে। তার মধ্যে অন্যতম শিব কোঠার পুজো।

সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রবীণাদের কোলে বসে ধুনো পোড়ানো হয় অষ্টমীতে, বারাসতে দক্ষিণপাড়ার শিব কোঠা
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: জেলা সদর শহর বারাসতে কালীপুজো বিখ্যাত হলেও বেশ কয়েকটি বনেদিবাড়ির দুর্গাপুজোও নজর কাড়ে। তার মধ্যে অন্যতম শিব কোঠার পুজো। ৪৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই পুজো। জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজোর পর প্রতিমা গড়া শুরু হয়। মহালয়ার আগের দিন প্রতিমা ঠাকুর দালানে প্রবেশ করে। দেবীপক্ষের সূচনা থেকেই পুজো শুরু হয়ে যায় এখানে।

Advertisement

এই পুজোর বিশেষত্ব অষ্টমীতে ধুনো পোড়ানোর রেওয়াজ। বাড়ির প্রবীণারা মূর্তির সামনে ধুনো পোড়ান। পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও এলাকার মানুষজন সেই প্রবীণ মহিলাদের কোলে আসন নেন। পরিবারের বিশ্বাস, ‘কোলে বসলে সারা বছর শরীর সুস্থ থাকে’! এভাবেই প্রায় ৪৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বারাসতের দক্ষিণপাড়ার শিব কুঠিতে দুর্গাপুজো চলে আসছে।
কিভাবে শুরু এই পুজোর? কথিত আছে, মোঘল সম্রাট আকবর বারো-ভুইঁয়াদের মধ্যে ১১ জনকে বশে আনেন। কিন্তু, যশোরের অধিপতি প্রতাপাদিত্যকে পারেননি। তাঁর প্রধান সেনাপতি ছিলেন সর্দার শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। মোঘল সম্রাটের উদ্দেশ্য ছিল সেনাপতি শঙ্করকে বধ করা। তাই বিভিন্ন কায়দা করে রাজা প্রতাপাদিত্য ও শঙ্করকে বন্দি করে দিল্লি নিয়ে যান তিনি। সঙ্গে নিয়ে যান যশোরেশ্বরী কালীমূর্তিও। এরপর মৃত্যু হয় আকবরের, তারপরে বন্দি অবস্থায় প্রতাপাদিত্যেরও মৃত্যু হয়। তখন আকবর-পুত্র জাহাঙ্গিরের নির্দেশে শঙ্করের আমৃত্যু কারাবাসের সাজা হয়। এদিকে তাঁর কারাবাসের মধ্যেই পিতৃতর্পণের কাল চলে আসে। বন্দি শঙ্কর সম্রাটের কাছে তর্পণ করার আর্জি জানান। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেন জাহাঙ্গির। ব্যথিত শঙ্কর কারাগারেই আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে আকবরের স্ত্রী যোধাবাঈ শঙ্করের আবেদন অনুমোদন করার নির্দেশ দেন পুত্র জাহাঙ্গিরকে। সেই অনুসারে সেনাপ্রহরায় যমুনার তীরে শঙ্কর তর্পণ করেন। শঙ্করের মন্ত্রোচ্চারণ শুনতে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। সেই ভিড়ে ছিলেন বোরখা পরিহিতা যোধাবাঈও। মুগ্ধ হন তিনি। ওই রাতেই তিনি স্বপ্নে দেখেন, তিনি দুর্গাপুজো করছেন। স্বপ্ন ভেঙে যেতে তাঁর মনে পড়ে শঙ্করের কথা। কারাগারে গিয়ে তিনি শঙ্করকে দুর্গাপুজো করার নির্দেশ দেন। শিবের উপাসক শঙ্কর প্রথমে রাজি হননি। পরে তিনি পুজো করতে শুরু করেন। শঙ্করের পিতৃভিটে ছিল বারাসতে। শিবের উপাসক হয়েও তিনি দুর্গাপুজো করেন বলে তাঁর এই পুজো ‘শিবের কোঠার’ দুর্গাপুজো বলে পরিচিত।
পরিবারের এক সদস্য মুকুল চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, সর্দার শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে বারাসতের দক্ষিণপাড়ায় এই পুজো শুরু। মহালয়া থেকেই বাড়িতে পুজো শুরু হয়ে যায়। দশমীতে বিসর্জনের আগে গোল করে উমাকে অঞ্জলি দেওয়া হয়। আর সেক্ষেত্রে বাড়ির বা পাড়ার বিধবারা শামিল হন। মাকে সিঁদুর দান করেন বিধবারাও। তারপর মাকে কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই নিরঞ্জন করা হয় স্থানীয় পুকুরে। বিসর্জনের পর সত্যনারায়ণের পুজো করা হয়। দশমীর দিন উমাকে পান্তা ভাত ও কচু শাক ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়। আগে দশমীতে স্থানীয় পুকুরে বলি দেওয়া হলেও এখন তা বন্ধ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ