নয়াদিল্লি: দেশের যে ২১টি রাজ্যে এনডিএ সরকার রয়েছে, সেখানে ২০২৯ সালের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু হবে। সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার পালটা মুখ খুললেন ওমর আবদুল্লা। এদিন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিহারে জেডিইউয়ের মতো বৃহত্ শরিক দল প্রকাশ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতা করছে। জেডিইউয়ের বিধায়ক শ্যাম রজক ঘোষণা করেছেন যে তাঁরা বিহারে ইউসিসি চালু করতে দেবেন না। তাহলে শাহ কীসের ভিত্তিতে এমন কথা বলছেন? এভাবে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে ইউসিসি চালুর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওমর। তাঁর দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সারা দেশে কার্যকর করার জন্য তা সংসদে পাশ হওয়া জরুরি। কিন্তু বিজেপির শরিক দলই যদি এই নিয়ে নারাজ হয়, তাহলে কী করে সারা দেশে এই আইন চালু হবে? বিজেপি ইউসিসি বিল সংসদে পাশ করাতে পারবে না বলেও দাবি করেছে তিনি।
যদিও ব্রিকস সম্মেলনের শেষে যৌথ বিবৃতিতে পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশংসা করেছেন ওমর। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের বিদেশ নীতির বিরাট সাফল্য।’ তাঁর বক্তব্য, ‘পহেলগাঁও হামলার যে নিন্দা করা হয়েছে, সেটা বড়ো ব্যাপার। ওই সম্মেলনে পাকিস্তানের বন্ধু দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।’ তবে যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানের উল্লেখ না থাকার প্রসঙ্গে ওমর জানান, এটি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের দেখার বিষয়।
এদিকে, জেডিইউ বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হতেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সুর নরম করার ইঙ্গিত দিয়েছে নীতীশ কুমারের দল। মঙ্গলবার বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, ইউসিসি বিলটি পর্যালোচনা করে দেখবে জেডিইউ। যদি এর ধারাগুলি নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে অকারণে এর বিরোধিতা করা হবে না। এই ইস্যুতে বিজেপির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের শাসকদল টিডিপিও। দক্ষিণের ওই রাজ্যে টিডিপির সঙ্গে জোট রয়েছে বিজেপির। টিডিপির রাজ্য সভাপতি পি শ্রীনিবাস রাও জানান, এনডিএর সদস্য হিসাবে তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা মেনে চলতে বাধ্য। তিনি বলেন, ‘সমালোচকদের কেউ কেউ বলেন ইউসিসি ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী। তবে আমরা সবসময় মনে করি, ইউসিসি দেশকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করবে।’