সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: এক ঘরে পড়ে মায়ের নিথর দেহ। অন্য ঘরে দিব্যি শুয়ে আছে ছেলে। কালচিনি ব্লকের সাঁতালি চা বাগানের ফিটারলাইনে বৃদ্ধার এই রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, মৃতার নাম সোমালি তিরকি (৬০)।
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: এক ঘরে পড়ে মায়ের নিথর দেহ। অন্য ঘরে দিব্যি শুয়ে আছে ছেলে। কালচিনি ব্লকের সাঁতালি চা বাগানের ফিটারলাইনে বৃদ্ধার এই রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, মৃতার নাম সোমালি তিরকি (৬০)।
সোমবার গভীর রাতে স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে মৃতার ছেলে অমিত তিরকির শ্রমিক আবাসে যান। সেখানে এমন দৃশ্য দেখে হতভম্ভ হয়ে যান তাঁরা। রাতেই খবর পেয়ে হাসিমারা আউটপোস্টের পুলিস বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। আটক করে মৃত বৃদ্ধার ছেলেকে।
পুলিস জানিয়েছে, বৃদ্ধার দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের ধারণা, কয়েকদিন আগে বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন। তিনি ছেলেকে নিয়ে ওই শ্রমিক আবাসে থাকতেন। বৃদ্ধার দুই মেয়ের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। যদিও মায়ের এই রহস্যজনক মৃত্যুর পরেও বৃদ্ধার মেয়েরা পুলিসের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
ছেলে অমিতও পুলিসকে মায়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে পারেনি। মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পরেও কেন যুবকটি মায়ের দেহ আগলে ছিল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিসও যুবকের থেকে তা জানতে পারেনি। কেনই বা মায়ের মৃত্যুর খবর যুবক প্রতিবেশীদের জানায়নি তা নিয়েও রহস্য বাড়ছে। পুলিস যুবককে আপাতত আটক করে বৃদ্ধার দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বৃদ্ধার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তাই বৃদ্ধার ছেলেকে আপাতত আটক করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মা ছেলের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত। নেশা করে এসে মাঝে মাঝে যুবকটি তাঁর বৃদ্ধা মাকে মারধর করত। সবমিলিয়ে ময়নাতদন্তের পরেই বৃদ্ধার মারা যাওয়ার আসল কারণ স্পষ্ট হবে। তাই পুলিস ময়নাতদন্তের রিপোর্টকেই এখন পাখির চোখ করছে। পুলিস আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার কেস রজু করে তদন্ত করছে।