Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্ধ পলিসির কোটি টাকা পাওয়ার লোভে ৬৩ লক্ষ খোয়ালেন বৃদ্ধ

বন্ধ পলিসির কোটি টাকা পাওয়ার লোভে ৬৩ লক্ষ খোয়ালেন বৃদ্ধ
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমার পলিসিতে কোটি টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিষ্ণুপুরের এক বৃদ্ধকে ৬৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছে। সাইবার প্রতারণায় এত বিপুল টাকা জেলায় কেউ খোয়াননি। প্রতারকদের দাবি মেটাতে ওই ব্যক্তি চড়া সুদে লোন নিয়েছেন। তার জেরে বর্তমানে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ৭২বছরের ওই বৃদ্ধ। ইতিমধ্যে তিনি বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রতারিত ওই বৃদ্ধ বলেন, পলিসির প্রাপ্ত টাকা তুলতে না পারলে তা প্রধানমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডে জমা হয়ে যাবে বলে জানায় প্রতারকরা। তাই ওই টাকা তোলার জন্য প্রসেসিং চার্জ থেকে আরম্ভ করে নানা অজুহাতে তিনবছর ধরে ৪৭বারে ৬৩লক্ষ টাকা নিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর থানা এলাকার বাসিন্দা এক বৃদ্ধ ২০০২ সালে কোনও সংস্থায় একটি বিমা করেন। 
পরবর্তীতে তিনি ওই পলিসিটি আর চালাননি। ২০২১ সালে হায়দরাবাদের এক ব্যক্তি ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিলের সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই বৃদ্ধকে ফোন করে। সে জানায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া পলিসির টাকা কোম্পানি শেয়ার মার্কেটে খাটিয়েছে। ওই সময় তার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। 
ওই টাকার কোনও দাবিদার না থাকলে, তা প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডে জমা হয়ে যাবে। এরপর ওই ব্যক্তি তাঁকে বলে, বিমার টাকা তুলতে গেলে বেশকিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। 
তা সম্পূর্ণ করতে প্রসেসিং চার্জ সহ অন্যান্য খাতে অগ্রিম টাকা জমা করতে হবে। সেইমতো ওই বৃদ্ধ লক্ষাধিক টাকা জমা করেন। তাঁর কাছ থেকে তিন বছর ধরে নানা অজুহাতে পর্যায়ক্রমে মোট ৬৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। তারজন্য তিনি প্রথমে পরিচিতদের কাছে ধার করেন। 
পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে ওই টাকা মেটান। তাতেও প্রতারকদের আরও লোভ বেড়ে যায়। তারা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। সেই টাকা জোগাড় করতে না পেরে বৃদ্ধ হতাশ হয়ে পড়েন। পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন।
বৃদ্ধ বলেন, সরল মনে বিশ্বাস করায় যে এভাবে খেসারত দিতে হবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমার আরও আগে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। দাবিমতো টাকা জমা করলে কয়েকদিনের মধ্যেই পলিসির সমস্ত টাকা পাওয়া যাবে বলে ওরা জানায়। তা বিশ্বাস করে ওদেরই দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাই। তারপরই ওরা নানা অজুহাতে আবারও টাকা দাবি করতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় চড়া সুদে লোন করেছি। পরিচিতদের কাছ থেকেও ধার করেছি। কীভাবে তা শোধ করব, বুঝতে পারছি না। তাই পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ