Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ওয়াকফ: জেপিসি বৈঠক বয়কটে ‘ইন্ডিয়া’

ওয়াকফ: জেপিসি বৈঠক বয়কটে ‘ইন্ডিয়া’
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওয়াকফ আইন সংশোধনী বিল পর্যালোচনার জন্য গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) বৈঠক বয়কট করবেন বিরোধী সদস্যরা। আগামী কয়েকদিনে কলকাতা সহ দেশের কয়েকটি শহরে বৈঠকগুলি নির্ধারিত রয়েছে। তৃণমূল এমপি তথা জেপিসি সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ‌্যায় বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিজেপি এমপি জগদম্বিকা পালের নেতৃত্বে ত্রুটিপূর্ণ জেপিসি পরিচালনার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত। কল্যাণের অভিযোগ, তাঁর স্বেচ্ছাচারিতায় জেপিসিকে হাস্যকর পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন চেয়ারম্যান। বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণ করতেই এই রিপোর্ট তড়িঘড়ি সংসদে পেশ করার চেষ্টা চলছে। এই জেপিসি থেকে বিরোধী সদস্যরা আগামী দিনে পুরোপুরি সরে আসবেন কি? কল্যাণ বলেন, সেটা পরে ঠিক হবে। আপাতত আগামী শনিবার গুয়াহাটি থেকে শুরু করে কয়েকটি রাজ্যে জেপিসির যেসব বৈঠক হবে তাতে বিরোধীরা (‘ইন্ডিয়া’ জোটভুক্ত) যোগ দেবেন না। পরবর্তী বৈঠকগুলি হওয়ার কথা সোমবার ভুবনেশ্বর, মঙ্গলবার কলকাতা, বুধবার পাটনা ও বৃহস্পতিবার লখনউতে। 
Advertisement
মোদি সরকারের ওয়াকফ আইন সংশোধনের উদ্যোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ও আপত্তি তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রস্তাবিত বিলটি গত আগস্টে সংসদে পেশ করার পর পর্যালোচনার জন্য জেপিসি গড়া হয়। ৩১ সদস্যের ওই কমিটিতে লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য যথাক্রমে ২১ জন ও ১০ জন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন বিভিন্ন বিরোধী দলের, চেয়ারম্যানসহ ১৭ জন এনডিএ-ভুক্ত বিভিন্ন শরিক দলের। জেপিসিতে তৃণমূলের তরফে কল্যাণ ছাড়া আছেন রাজ্যসভার সদস্য নাদিমুল হক। প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকেও নাদিমুল ছিলেন। জেপিসিতে অন্য বিরোধী দলগুলি হল কংগ্রেস, এসপি, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি (শরদ), জেএমএম প্রভৃতি। 
চেয়ারম্যানের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী সদস্যরা ৫ নভেম্বর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। কল্যাণ জানান, স্পিকারের কাছ থেকে সেদিন তাঁরা ইতিবাচক সাড়াই পান, কিন্তু পরে তার বাস্তব প্রতিফলন কিছু দেখা যায়নি। আগের মতোই দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পরপর বৈঠক ডাকা হচ্ছে। এতে সদস্যদের উপর প্রচুর চাপ পড়ে যাচ্ছে এবং উপেক্ষিত হচ্ছে পর্যালোচনার কাজটাই। কমিটির বৈঠকে চেয়ারম্যানের ইচ্ছামতো বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তিকে ডাকা হচ্ছে। বিলের পক্ষে যাঁরা মত দেবেন ডাক পাচ্ছেন মূলত তাঁরাই। অন্যদিকে, ওয়াকফের সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা বক্তব্য পেশের সুযোগ পাচ্ছেন না।
কমিটি গঠনের সময়, পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার পরে রিপোর্ট পেশ করার কথা বলা হয়েছিল। কল্যাণ বলেন, এমনটা বলা হলেও বাস্তবে জেপিসির কার্যকালের মেয়াদ বাড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে রিপোর্ট পেশের জন্য অনাবশ্যক তাড়াহুড়ো চলছে। ২৫ নভেম্বর থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে, মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডের ভোটের ফল বেরিয়ে যাবে। ওই ভোটে বিজেপির হারের পরই থমকে যাবে তড়িঘড়ি রিপোর্ট পেশের উদ্যোগ। 
সম্পর্কিত সংবাদ