Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঐতিহ্য ধরে রেখে জমজমাট সদরঘাটের ঘুড়ির মেলা

ঐতিহ্য ধরে রেখে জমজমাট সদরঘাটের ঘুড়ির মেলা
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তখন রাজাদের আমল। সেই রাজত্বেও ছিল মকরসংক্রান্তি পালন করার রীতি। এখনকার থেকে আরও রঙিনভাবে তা উদযাপন করা হতো। সংক্রান্তির দিন রাজবাড়িতে ময়ূরপঙ্খী গানের আসর বসত। বহু পুরনো এই লোকগীতিতে উৎসবের হাওয়া বয়ে যেত রাজবাড়িজুড়ে। কে ভালো গান গাইতে পারে তা নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা হতো। দামোদর ঘাটে বসত ময়ূরপঙ্খী মেলা। সেই লোকগীতি এখন অবলুপ্ত। কিন্তু পৌষমাসের শেষে দামোদরের সদরঘাটে এই মেলার সঙ্গে এখনও মাটির টান রয়েছে বর্ধমানের। এই মেলা একটু অন্যরকম। বিভিন্ন পসরা নিয়ে দোকান সাজানো হয় ঠিকই কিন্তু নজর থাকে আকাশের ঘুড়ির দিকে। কিশোর থেকে প্রবীণ সকলেই হাতে লাটাই তুলে নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দামোদরে জল কমে গিয়েছে। নদের চরে হাজির হয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। সেখানেই চলছে ঘুড়ির সুতোয় টান দেওয়া। চরে জিলিপি, ১০ টাকায় রকমারি পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন দোকানদাররা। রায়না, খণ্ডঘোষ, গলসি সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সেই মেলায় ভিড় জমিয়েছেন। সাধারণ গৃহবধূ থেকে নব প্রজন্মের যুবতীরাও হাজির হয়। বয়স্কদের অনেকে এদিনও দামোদরের অল্পজলে ডুব দিলেন। কেউ কেউ আবার কিছুটা দূরে গিয়ে পিকনিকে মাতলেন। কিন্তু যে যাই করুন না কেন, সবার চোখ আটকাল আকাশের দিকে। সেখানে ঘুড়ির লড়াই চলছে। সদরঘাটে এসেছিলেন শিক্ষক অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এমন ঘুড়ির মেলা দেশের আর কোথাও হয় কি না তা জানা নেই। সংক্রান্তির আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি নিয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান সাজান। সেই রাজ আমল থেকেই এখানে ঘুড়ি ওড়ানোর চল শুরু হয়েছে। তা এখনও অটুট রয়েছে। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বেড়েছে। তবে তাতে বিপদও রয়েছে। এখন চীনা মাঞ্জায় ঘুড়ি ওড়ানো হয়। তাতে হামেশাই দুর্ঘটনা হচ্ছে। এদিনও সদরঘাট ও রথতলাতে কয়েকজন জখম হয়েছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক শুভলক্ষ্মী বসু বলেন, এমন সংস্কৃতি অন্য কোথাও দেখিনি। নতুন প্রজন্মও তা বাঁচিয়ে রেখেছেন। এটা প্রশংসনীয়। স্থানীয়রা বলেন, দামোদরের ঘাটে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হাজির হয়েছিলেন। দিনভর সেখানে তাঁরা নিজেদের মতো কাটান। সূর্য অস্ত যেতেই শুরু হয় ঘরে ফেরার পালা। বয়স্করা দূর থেকে নমস্কার করেন দামোদরকে। আর অল্প বয়সিরা কেউ বাঁশি বাজিয়ে আবার কেউ ‘টুম্পা সোনা’ গানের তালে কোমর দুলিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। আবার এক বছরের অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু হয়। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ