


সংবাদদাতা, বোলপুর: একুশে জুলাইয়ের সভায় ‘মিশন ছাব্বিশ’-এর সুর বেঁধে দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার নানুরে শহিদ দিবস পালন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সেই সুরকে আরও সপ্তমে তুলে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট করে দিলেন, আরও একটি ভাষা আন্দোলন শুরু হতে চলেছে বাংলায়। আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। আর অনুপ্রেরণা বাংলা-বাঙালির আবেগ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর নির্মম অত্যাচার নেমে আসছে। বিজেপি বাঙালি-অবাঙালি ভেদাভেদ করার চেষ্টা করছে। ওড়িশার সঙ্গে এক সময় বাংলার নিবিড় সুসম্পর্ক ছিল। ডাবল ইঞ্জিনের সরকার এসে সেই সম্পর্ককে বিনষ্ট করছে। ঘৃণার রাজনীতি শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠে নতুন করে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
এদিন নানুরের বাসাপাড়ায় আয়োজিত শহিদ দিবসে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখে আপ্লুত ফিরহাদ। সেখানে তাঁর এই বার্তা ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ধরপাকড়, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শহিদ দিবসে ফিরহাদ ছাড়াও ছিলেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, কেতুগ্রামের বিধায়ক শাহনাওয়াজ হোসেন সহ অন্যান্যরা। মঞ্চে ছিলেন শহিদ পরিবারের সদস্যরাও। কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান কাজল শেখ। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘নানুরের খেটে খাওয়া খেত মজুরদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল সিপিএমের হার্মাদরা। আজও সেইসব শহিদদের পরিবারের পাশে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’ কাজলও বাংলা ভাষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আন্দোলনে সকলকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০০০ সালে ঘটনাটা ঘটেছিল। আমিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছিলাম। তারপর থেকে নানুরের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে। দিদি কখনই শহিদদের ভোলেননি। চতুর্থবারের জন্য উনি আবার মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। বাংলা ও বাঙালিদের ওপর যেভাবে অত্যাচার হচ্ছে তার প্রতিবাদ করার সময় এসেছে। সেই আন্দোলনে পথ দেখাবে বীরভূম।’
মঞ্চে সর্বশেষ বক্তা ছিলেন ফিরহাদ। তিনি নানুরে গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এই জেলায় সংখ্যার নিরিখে যতজন শহিদ হয়েছেন, তা বাংলার অন্যান্য জায়গায় খুব কম হয়েছে। টিভিতে বসে যাঁরা বলেন ছিঃ ছিঃ ছিঃ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করছেন, তাঁরা কি এখন দেখতে পারছেন না, বাংলার মানুষ বাংলায় কথা বলতে পারছেন না? মনে রাখবেন এই বাংলার মানুষ সিপিএমকে তাড়িয়ে বিধানসভা শূন্য করে দিয়েছেন। সেই কারণেই বললাম, শহিদের রক্ত কখনও ব্যর্থ হয় না। নানুরে অনেক রক্ত ভেসেছে। এখানকার মানুষের লড়াই সফল হয়েছে।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘সেদিন গরিব মানুষের উপর অত্যাচার হয়েছিল। আজও গোটা দেশে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে। বিজেপির প্রথমে ভেবেছিল হিন্দু-মুসলমান করে ভাগ করবে। কিন্তু, ওরা জানে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইয়ের নাম ফিরহাদ হাকিম। ফলে ওদের মুখ ভোঁতা হয়ে গেছে। আসলে, বিজেপি এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে। ওদের কেন্দ্র থেকে না সরানো পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।’
শহিদ দিবস মঞ্চে দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক ও ফিরহাদ হাকিম। নিজস্ব চিত্র