নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাবালিকা নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর এফআইআর রুজু করল পুলিশ। কোনো জেলা শহর নয়, খাস কলকাতায় ঘটেছে এই ঘটনা। কড়েয়া থানার এই ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা পুলিশ যে এই রোগ থেকে মুক্ত হতে পারেনি, এই ঘটনায় তা স্পষ্ট। তবে বিষয়টি নজরে আসতেই সক্রিয় হয়েছে লালবাজার। ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। সেখানে ওসি মেনে নিয়েছেন, ‘জাজমেন্টাল এরর’ হয়েছে। তবে এতবড়ো ঘটনার পরেও ওসি দু’মাসেরও বেশি ওই থানায় থেকে যান। বৃহস্পতিবার তাঁকে বদলি করা হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগে।
লালবাজার সূত্রে খবর, কড়েয়া এলাকার আয়রন সাইড রোডের বাসিন্দা এক নাবালিকা গত ৬ এপ্রিল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তাকে একা যেতে দেখেছিলেন আবাসনের দুই নিরাপত্তাকর্মী। ওই নাবালিকার সঙ্গে ছিল একটি ব্যাগ। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাবা মাধবকুমার ঝা ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ কড়েয়া থানায় যান। সেখানে মৌখিক অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে জেনারেল ডায়েরি (জিডি নম্বর ৫০৭) করা হয়। এরপর এক সাব ইনসপেক্টরকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়। তিনি সেখানে গিয়ে কথা বলেন নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, ওই নাবালিকাকে একাই বেরিয়ে যেতে দেখেছিলেন। অভিযোগ, এরপর বিষয়টি নিয়ে এগয়নি থানা। কিশোরীর বাবা বারবার খোঁজ নেওয়ায় পরের দিন সন্ধ্যায় একটি জিডি এন্ট্রি (৬০৯) করা হয়। তার ভিত্তিতে এফআইআর হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অনুসন্ধান করে এলেও কেন এফআইআর করল না? প্রায় ২২ ঘণ্টা সময় লাগিয়ে দিল কেন? কিশোরী যে নিখোঁজ, এই খবর স্থানীয়দের মারফত পৌঁছায় বিভাগীয় ডিসির কাছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে থানার কাছে নথি চেয়ে পাঠান। অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, ওই নাবালিকা মুম্বই চলে গিয়েছে। অবশ্য ১১ এপ্রিল সে নিজেই বাড়ি ফিরে আসে। গাফিলতি সামনে আসায় সঙ্গে সঙ্গেই কড়েয়া থানার ওসিকে শো-কজ করা হয়। কিন্তু তাঁর উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় (প্রসেডিং নম্বর ২৭/২৬)। লিখিত জবাবে তিনি মেনে নেন, ‘জাজমেন্টাল এরর’ হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি এই কাজ করেননি। এরপর লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। তাঁর একটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এতবড়ো ঘটনার পরেও তাঁকে ওই থানা থেকে সরায়নি লালবাজার। বৃহস্পতিবার ওসিদের যে বদলির নির্দেশ বেরিয়েছে, তাতে নাম রয়েছে তাঁর। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে সিপিকে বার্তা পাঠানো হলেও উত্তর আসেনি।