Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেলাশাসকের অফিসের সামনেই লিজে দেওয়া সরকারি জমিতে তৈরি ভবন দখল

জেলাশাসকের অফিসের একেবারে সামনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ভবন ‘দখল’ করে তালা ঝোলানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে

জেলাশাসকের অফিসের সামনেই লিজে দেওয়া সরকারি জমিতে তৈরি ভবন দখল
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জেলাশাসকের অফিসের একেবারে সামনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ভবন ‘দখল’ করে তালা ঝোলানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এর আগে বারাসতের এই ভবনটি ছিল তৃণমূলের দখলে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এটি তৃণমূলের নির্বাচনি কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই দাবি। পালাবদলের পর বিজেপির বিরুদ্ধে সেই ভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে বারাসতে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বারাসত থানা এলাকায় ০.০৩ একর সরকারি জমি আছে। রাজ্যের ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের তরফে জমিটি লিজ দেওয়া হয় স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল (ইউনিফায়েড)-এর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটিকে। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ বছরের জন্য এটি লিজ দেওয়া হয়েছে। লিজের বার্ষিক ভাড়া ৯ হাজার ৬৪৫ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নথিতে কোনো রাজনৈতিক দল নয়, লিজপ্রাপক হল সরকারি কর্মচারী সংগঠনের জেলা কমিটি। সেই জমিতে তৈরি ভবনকে কেন্দ্র করেই বারাসতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

Advertisement

অভিযোগ, একটা সময় ভবনটি তৃণমূলের কর্মচারী সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এই বিধানসভা নির্বাচনের সময় সেটি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ভোটের পর পালাবদলের আবহে এবার ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিজেপি। কর্মচারী সংগঠনের এক সদস্য বলেন, ‘তৃণমূলের পর এবার বাড়িটা বিজেপি দখল করল। সরকার জমি দেওয়ার পর ভবনটি তৈরি হয়েছিল সংগঠনের সদস্যদের চাঁদায়। প্রায় ৫০০ কর্মী সেই সময় চাঁদা দিয়েছিলেন। ভোটের ফলাফল বেরতেই অফিসে তালা ঝোলানো হয়। সামনে বড়ো করে বিজেপির সাইন বোর্ড রয়েছে। তাতে লেখা বারাসত মণ্ডল-২। আর নীচে লেখা, বারাসত সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়।’ 
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি নথিতে যখন জমিটি ৩০ বছরের জন্য কর্মচারী সংগঠনের নামে লিজে রয়েছে, সেই জমিতে তৈরি ভবন কীভাবে প্রথমে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে গেল? আর এখন তা কীভাবে বিজেপি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠছে? জেলাশাসকের দপ্তরের একেবারে সামনে কীভাবে চলছে এই অনিয়ম, উঠছে সেই প্রশ্নও। এনিয়ে বিজেপির বারাসত-২ মণ্ডল সভাপতি চিরঞ্জিৎ দাশগুপ্ত বলেন, ‘দখলের অভিযোগ মিথ্যা। যাঁরা এই ভবনটি নিজস্ব বলে দাবি করছেন, তাঁরা উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে এলে তাঁদেরই তুলে দেব। আমি ওঁদের ডেকেছিলাম। কিন্তু কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। এটা তো তৃণমূলের পার্টি অফিস ছিল।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ