নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেকেআরে খেলার সুবাদে ইডেনের প্রতিটি ঘাস তাঁর চেনা। তিনি জানতেন, এই পিচে কীভাবে ব্যাটারদের প্যাঁচে ফেলা যায়। অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সফল বরুণ চক্রবর্তী। বুধবার তাঁর ঘূর্ণিতেই তুর্কি নাচন নেচেছেন হ্যারি ব্রুক, লিয়াম লিভিংস্টোনরা। ৪ ওভারে ২৩ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মিস্ট্রি স্পিনার। সুবাদে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন তিনি। সাফল্যের রহস্য ফাঁস করে বরুণ জানান, ‘২০২১ বিশ্বকাপের পর আমার বোলিংয়ে আমূল বদল এনেছি। আগে অনেক বেশি সাইডস্পিন করতাম। ফলে ব্যাটাররা সহজেই আমার ডেলিভারি আন্দাজ করে ফেলছিল। তাই সাইডস্পিন ছেড়ে ওভারস্পিনে জোর দিয়েছি। পাশাপাশি বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে গতির হেরফেরও ঘটিয়ে থাকি।’
Advertisement
বিশ্ব ক্রিকেটে রহস্য স্পিনার বললে সবার প্রথমে নাম আসে সুনীল নারিনের। কলকাতা নাইট রাইডার্সে এই ক্যারিবিয়ান স্পিনারের সান্নিধ্যে দারুণ উপকৃত হয়েছেন বরুণ। কলকাতার উইকেটের বিশ্লেষণে তাঁর মন্তব্য, ‘আইপিএলে এমন উইকেট অনেক দেখেছি। পিচে পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা ছিল। তবে জানতাম, ইডেনের বাইশ গজে কোন লেংথে বল করলে ব্যাটাররা সমস্যায় পড়বে। এটা ঠিক যে, জস বাটলারের মতো ক্রিকেটারকে বল করা সহজ নয়। তবে ঈশ্বর আমার সঙ্গে ছিলেন।’ উল্লেখ্য, আইপিএলে কেকেআরের অন্যতম অস্ত্র বরুণ। সেখানে নজর কাড়ার পুরস্কার স্বরূপ ভারতের টি-২০ দলেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেও তাঁর সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। বরুণ অবশ্য সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ। বরং তিনি মনে করছেন, এখনও সেরাটা দেওয়া বাকি রয়েছে। ৩৩ বছর বয়সি স্পিনারের সংযোজন, ‘নিজেকে দশের মধ্যে সাত দেব। এখনও অনেক উন্নতির অবকাশ রয়েছে।’ পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমার ৯৫ শতাংশ মনোযোগই থাকে নিজেকে ঘিরে। প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে নিয়ে বেশি ভাবতে গেলে লেংথ ভুল করে ফেলব। তখন শর্ট বা ফুলটস বল পড়বে। তাই ব্যাটার কী করতে পারে সেটা না ভেবে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই জোর দিই।’
ম্যাচের পর অভিষেক শর্মাও তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন, ‘বরুণ আক্ষরিক অর্থেই ম্যাচ উইনার। ওর ঘূর্ণিতেই ইংল্যান্ড বড় রান তুলতে পারেনি।’ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলারের বক্তব্য, ‘বরুণকে খেলা মোটেই সহজ নয়। ওর বিরুদ্ধে পরের ম্যাচগুলিতে সতর্ক থাকতে হবে।’
ম্যাচের পর অভিষেক শর্মাও তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন, ‘বরুণ আক্ষরিক অর্থেই ম্যাচ উইনার। ওর ঘূর্ণিতেই ইংল্যান্ড বড় রান তুলতে পারেনি।’ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলারের বক্তব্য, ‘বরুণকে খেলা মোটেই সহজ নয়। ওর বিরুদ্ধে পরের ম্যাচগুলিতে সতর্ক থাকতে হবে।’



