Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবহেলায় পড়ে প্রাচীন মূর্তি ও সাবেক স্থাপত্য, ইতিহাস সংরক্ষণে উদাসীন বাঁশবেড়িয়া পুরসভা

অবহেলায় পড়ে প্রাচীন মূর্তি ও সাবেক স্থাপত্য, ইতিহাস সংরক্ষণে উদাসীন বাঁশবেড়িয়া পুরসভা
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঁশবেড়িয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। ছড়িয়ে আছে নানা প্রাচীন মূর্তিও। শতাব্দী প্রাচীন মূর্তিগুলি কোথাও রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা মন্দিরে স্থান পেয়েছে, কোথাও আবার পথের ধারেই অবহেলায় পড়ে রয়েছে। ওই ঐতিহাসিক মূর্তি ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন অবহেলায় পড়ে থাকায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভা থেকে জেলা প্রশাসন, কেন্দ্রীয় পুরাতাত্ত্বিক দপ্তর, কেউই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করেনি। অবহেলায় পড়ে থাকা পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে সাবেক বংশবাটির ঐতিহ্যও হারিয়ে যাচ্ছে।
Advertisement
শুধু পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের অবহেলা হচ্ছে তাই নয়, স্থানীয় পুরসভাও তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরখানেক আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে বাঁশবেড়িয়ার ইতিহাস সংরক্ষণের কথা জানিয়েছিলেন পুরকর্তারা। বাঁশবেড়িয়ায় একটি নিজস্ব আঞ্চলিক মিউজিয়াম তৈরির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাজ কিছুই এগয়নি। এনিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। হুগলির আঞ্চলিক ইতিহাসের চর্চাকার সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাঁশবেড়িয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কাছেই সপ্তগ্রাম বন্দর। বাঁশবেড়িয়া বা বংশবাটি অতীতে সমৃদ্ধ নগর ছিল। সেখানে ইতিহাসের অনেক উপাদান, প্রাচীন মূর্তি, স্থাপত্যের নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শুধু হংসেশ্বরী মন্দির রক্ষা করলেই ইতিহাসের প্রতি দায়িত্ব পালন করা হয় না। বৃহত্তর হুগলির ইতিহাসও বাঁশবেড়িয়ার মাধ্যমে সমৃদ্ধ হতে পারে। বাঁশবেড়িয়া পুরসভাকে এব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। 
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, আঞ্চলিক ইতিহাসের মিউজিয়াম আমরা তৈরি করব। সেই প্রক্রিয়া চলছে। শহরে প্রাচীন মূর্তি, স্থাপত্যের নিদর্শন অবহেলায় পড়ে আছে, তা সত্য। কিন্তু সেসব নিয়ে পুরসভার ভূমিকা কী হতে পারে, বুঝতে পারছি না। নাগরিকদের চাহিদার কথা আমি জানি। এ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কথা বলব।
সপ্তর্ষিবাবুর দাবি, বাঁশবেড়িয়া ও সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রচুর প্রাচীন মূর্তি ও স্থাপত্য পাওয়া গিয়েছিল। তার কিছুটা জেলার নানা জায়গায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু তা খুবই সামান্য। বাঁশবেড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনও অনেক মূর্তি, স্থাপত্য অবহেলায় পড়ে রয়েছে। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন বা জেলা প্রশাসন কেউই কোনও পদক্ষেপ করেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই সব নিদর্শন একত্রিত করলে বাঁশবেড়িয়ার ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে সেই সমৃদ্ধ ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে নতুন প্রজন্ম। আসলে এ নিয়ে কোনও মহলই উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে উপেক্ষিত হচ্ছে ইতিহাস, বঞ্চিত হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। 
সম্পর্কিত সংবাদ