ডাঃ রমাকান্ত পণ্ডা (বিশিষ্ট হার্ট সার্জন): সারা জীবনে কম রোগী দেখলাম না। কম সার্জারিও করিনি। প্রায় ৩০ হাজার হার্ট সার্জারি করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত মনের জোর আর কারও ক্ষেত্রে দেখিনি।
Advertisement
২০০৯ সালে ওঁর অপারেশন করার পর একবার ফলো-আপে গিয়েছি। শান্ত ঠান্ডা গলায় বলছিলেন, ‘দেখুন, জীবন আমায় কী দেয়নি! সার্জারিতে ভালো-মন্দ যাই হোক, সবকিছুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। যদি কিছু হয়েও যেত, কোনও সমস্যা হতো না দেশের। অনেক যোগ্য নেতা ছিলেন। ঠিক দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন তাঁরা।’
অনেক কথা মনে পড়ছে। বাইপাস সার্জারি রীতিমতো বড় অপারেশন। অপারেশনের পর মেশিনের সাহায্য ছাড়া স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে অধিকাংশ রোগীর ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। যখন ওঁর অস্ত্রোপচার করি, বয়স কিন্তু কম ছিল না প্রধানমন্ত্রীর—৭৬ বছর! ওই বয়সে অপারেশনের মাত্র ২ ঘণ্টা পরই তিনি নিজে নিজে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে থাকেন। অপারেশনের ২ দিনের মধ্যে, ২৬ জানুয়ারি হাসপাতালেই নিজের প্রধান সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। শুরু করে দেন কাজকর্ম।
এরকম প্রাণশক্তির মানুষ হয় না। প্রচণ্ড মনের জোর আর পরিমিত জীবনযাপনের বলেই এত বড় অপারেশনের পর ১৬ বছর মোটামুটি নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছিলেন। ভুললে চলবে না, ২০০৯ সালে আমরা ওঁর যে বাইপাস সার্জারি করেছিলাম, সেটি ছিল ‘রি ডু বাইপাস’। আগেও একবার বাইপাস হয়েছিল ওঁর। তারপরও সমস্যা হওয়ায় ওই বয়সে আবার অপারেশন করতে হয়েছিল।
আসলে ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি অপারেশন হওয়ার কথা ছিল না। আমরা ঠিক করেছিলাম, সাধারণতন্ত্র দিবসের পরই এশিয়ান হার্ট ইনস্টিটিউটে ওটিতে নামব। কিন্তু ২১ তারিখে ফোন এল। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হল, বুকে ব্যথা হচ্ছে ওঁর। বুঝলাম, দেরির প্রশ্নই আসে না। দ্রুত টিম তৈরি করলাম। ১৬ জনের টিম। ছুটলাম দিল্লি। এইমস-এ অপারেশন হবে। তখন কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ এ সম্পৎকুমার। আমার শিক্ষক। নামজাদা হার্ট সার্জেন। আমার টিম নিয়ে ওঁর বিভাগে কাজ করব। স্বাগত জানালেন। সহযোগিতাও করলেন।
অপারেশনের ২-৩ দিন আগে থেকে খবরের কাগজ পড়া, টিভি দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলাম। তাও মনমোহনজির যে অপারেশন হবে, ২৩ শের মধ্যে সারা দেশে খবর ছড়িয়ে পড়ল। পাঁচটা বাইপাস গ্রাফ্টিং করে নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম আমরা। চারটে ধমনির গ্রাফ্ট, একটি শিরার। অস্ত্রোপচার শেষে শ্বাসপ্রশ্বাসের মেশিন খোলার পর ডঃ সিং কী বলেছিলেন জানেন? অপারেশন কেমন হল, সব ঠিক আছে তো, এসব প্রশ্নের বদলে উনি জানতে চাইলেন, ‘দেশের অবস্থা কেমন? কাশ্মীর ঠিক আছে তো?’ এরপরও কেউ জানতে চাইবেন, ডঃ মনমোহন সিং মানুষটা ঠিক কেমন ছিলেন?
অনেক কথা মনে পড়ছে। বাইপাস সার্জারি রীতিমতো বড় অপারেশন। অপারেশনের পর মেশিনের সাহায্য ছাড়া স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে অধিকাংশ রোগীর ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। যখন ওঁর অস্ত্রোপচার করি, বয়স কিন্তু কম ছিল না প্রধানমন্ত্রীর—৭৬ বছর! ওই বয়সে অপারেশনের মাত্র ২ ঘণ্টা পরই তিনি নিজে নিজে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে থাকেন। অপারেশনের ২ দিনের মধ্যে, ২৬ জানুয়ারি হাসপাতালেই নিজের প্রধান সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। শুরু করে দেন কাজকর্ম।
এরকম প্রাণশক্তির মানুষ হয় না। প্রচণ্ড মনের জোর আর পরিমিত জীবনযাপনের বলেই এত বড় অপারেশনের পর ১৬ বছর মোটামুটি নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছিলেন। ভুললে চলবে না, ২০০৯ সালে আমরা ওঁর যে বাইপাস সার্জারি করেছিলাম, সেটি ছিল ‘রি ডু বাইপাস’। আগেও একবার বাইপাস হয়েছিল ওঁর। তারপরও সমস্যা হওয়ায় ওই বয়সে আবার অপারেশন করতে হয়েছিল।
আসলে ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি অপারেশন হওয়ার কথা ছিল না। আমরা ঠিক করেছিলাম, সাধারণতন্ত্র দিবসের পরই এশিয়ান হার্ট ইনস্টিটিউটে ওটিতে নামব। কিন্তু ২১ তারিখে ফোন এল। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হল, বুকে ব্যথা হচ্ছে ওঁর। বুঝলাম, দেরির প্রশ্নই আসে না। দ্রুত টিম তৈরি করলাম। ১৬ জনের টিম। ছুটলাম দিল্লি। এইমস-এ অপারেশন হবে। তখন কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ এ সম্পৎকুমার। আমার শিক্ষক। নামজাদা হার্ট সার্জেন। আমার টিম নিয়ে ওঁর বিভাগে কাজ করব। স্বাগত জানালেন। সহযোগিতাও করলেন।
অপারেশনের ২-৩ দিন আগে থেকে খবরের কাগজ পড়া, টিভি দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলাম। তাও মনমোহনজির যে অপারেশন হবে, ২৩ শের মধ্যে সারা দেশে খবর ছড়িয়ে পড়ল। পাঁচটা বাইপাস গ্রাফ্টিং করে নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম আমরা। চারটে ধমনির গ্রাফ্ট, একটি শিরার। অস্ত্রোপচার শেষে শ্বাসপ্রশ্বাসের মেশিন খোলার পর ডঃ সিং কী বলেছিলেন জানেন? অপারেশন কেমন হল, সব ঠিক আছে তো, এসব প্রশ্নের বদলে উনি জানতে চাইলেন, ‘দেশের অবস্থা কেমন? কাশ্মীর ঠিক আছে তো?’ এরপরও কেউ জানতে চাইবেন, ডঃ মনমোহন সিং মানুষটা ঠিক কেমন ছিলেন?
(লেখক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম চিকিৎসক)



