Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবৈধ সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরেই মায়ের প্রেমিককে খুন করে নাবালক

অবৈধ সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরেই মায়ের প্রেমিককে খুন করে নাবালক
  • ২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবৈধ সম্পর্কের কারণেই খুন হন জোড়াবাগান এলাকার এলআইসি এজেন্ট অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। যে মহিলার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির অবৈধ সম্পর্ক ছিল, তাঁর নাবালক সন্তানই এই খুনের ঘটনায় জড়িত। এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি বলেই সে খুন করে ওই এজেন্টকে। ওই নাবালককে নদীয়া থেকে নিয়ে এসেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, জানার চেষ্টা হচ্ছে।
Advertisement
খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে মৃত ব্যক্তির মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস ভালো করে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে থেকেই তদন্তকারীরা দেখেন, নদীয়ার একটি নম্বরে নিয়মিত কথা বলতেন তিনি। উল্টো দিক থেকেও কল আসত। এমনকী মেসেজও আদানপ্রদান হয়েছে। দু’জনেই একে অপরের বাড়িতে যেতেন। এখান থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত! ওই নম্বরের সাবস্ক্রাইবার আইডি বের করে দেখা যায়, সেটি এক মহিলার নম্বর। তাঁর বাড়ি নদীয়াতে। কিন্তু কী কারণে ফোন, জানতে নদীয়ায় রওনা হন তদন্তকারীরা। ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা জানতে পারেন কলকাতায় আসা যাওয়ার সুবাদে অভিজিৎবাবুর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়।  এরপর তিনি তাঁর কাছে একটি পলিসি করান। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। অভিজিৎবাবু প্রায়ই নদীয়ায় যেতেন। দু’জনেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জেনে ফেলে মহিলার নাবালক সন্তান। এমনকী দু’জনকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখেও ফেলে। তাই অভিজিৎবাবুর প্রতি তার ক্ষোভ জন্মায়। মাকে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বলে। এই নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার ঝামেলাও হয়। অভিযোগ, অভিজিৎবাবু নদীয়া গেলে সেখানে তাঁকে শাসায় ওই কিশোর। পরে জোড়াবাগানে তাঁর বাড়িতে এসে কিশোর জানিয়ে যায়, এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে না এলে ফল মারাত্মক হবে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারপরেও দু’জনের অবৈধ সম্পর্ক বজায় থাকায় নাবালক সিদ্ধান্ত নেয়, অভিজিৎবাবুকে সে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। 
খুনের উদ্দেশ্যেই সে বুধবার ওই বাড়িতে আসে। সকলের নজর এড়িয়ে সোজা উপরে উঠে যায়। পাঁচতলায় উঠে পার্টিশন টপকে ছাদে পৌঁছয়। ওই কিশোর জানত, পায়রা পোষার কারণে অভিজিৎবাবু ঘরের পিছনের দরজা ভেজিয়ে রাখেন। তাই সে ওইদিক দিয়ে ঘরে ঢোকে। সঙ্গে নিয়ে যায় দু’টি ছুরি, হাতুড়ি ও স্ক্রু ড্রাইভার। ঘরে ঢুকতেই তাকে চিনে ফেলেন অভিজিৎবাবু।  সঙ্গে সঙ্গে সে ছুরি দিয়ে তাঁর মাথায় একের পর এক আঘাত করতে থাকে। এরপর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। খুনের পর হাত পা ধুয়ে সে ওই ঘরেই ছিল। পরে সকালে বেরিয়ে নদীয়ায় চলে যায়। সেখানে পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই  পুলিস পৌঁছে যায় তার ঠিকানায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর নাবালককে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। তার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনে দেখা গিয়েছে, বুধবার সেটির অবস্থান জোড়াবাগান এলাকাতেই ছিল। আজ শনিবার তাকে জেজেবি আদালতে তোলার কথা রয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ