Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবৈধ নির্মাণ নিয়ে শুনানি অনন্তকাল নয়, এসওপি তৈরির নির্দেশ মেয়রের

অবৈধ নির্মাণ নিয়ে শুনানি অনন্তকাল নয়, এসওপি তৈরির নির্দেশ মেয়রের
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত শুনানি অনন্তকাল চলতে পারে না। তাতে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ নিয়ে অবৈধ নির্মাণ আরও মাথাচাড়া দেয়। তাই এক্ষেত্রে এবার কড়া হচ্ছে কলকাতা পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনারকে অবৈধ নির্মাণের শুনানি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা (এসওপি) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও বেআইনি নির্মাণের শুনানিতে আবেদনকারী এবং অভিযোগকারী উভয় পক্ষ যদি পরপর তিনটি শুনানিতে অংশ না নেন, তাহলে সেই শুনানি বন্ধ করে রায় দিয়ে দিতে হবে। সম্প্রতি বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের নির্যাস নিয়ে পুরসভা অবৈধ নির্মাণ রুখতে আরও তৎপর হয়েছে। এই আবহে মেয়রের নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। 
Advertisement
মেয়র কেন এই নির্দেশ দিলেন? কয়েকদিন আগে ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসে। ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যানার্জিপাড়া রোডের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ‘বেআইনি নির্মাণের জন্য পুরসভা নোটিস দিয়েছিল। তারপর শুনানির জন্য ডাকাও হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা তিন-তিনবার শুনানিতে আসেননি। ফলে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। সেই ফাঁকে অবৈধ নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত।’ ফোনে এই কথা শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরহাদ। বলেন, ‘এভাবে দিনের পর দিন তো শুনানি চলতে পারে না। তাতে অবৈধ নির্মাণকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অভিযোগকারী সুরাহা পান না। তাই পুর কমিশনার একটি নির্দেশিকা জারি করবেন। পরপর তিনটি শুনানিতে না এলে হিয়ারিং অফিসার অবৈধ নির্মাণ ভাঙা বা সেই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়ে দেবেন।’ পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে শুনানির রায় চ্যালেঞ্জ করে যে কেউ হাইকোর্টে যেতে পারে। কিন্তু তাতে পুরসভার বিরুদ্ধে অন্তত বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সিদ্ধান্ত ‘ঝুলিয়ে রাখা’র অভিযোগ উঠবে না। 
অবৈধ নির্মাণ নিয়ে শুনানি চলাকালীন অভিযুক্ত পক্ষের হাজির না থাকার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। কিন্তু বিবাদমান দু’পক্ষ না হাজির হলে বা কোনও একপক্ষ নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে কী করা হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ এতদিন ছিল না। এক পুরকর্তা বলেন, ‘এই সুযোগই নেয় অবৈধ নির্মাণকারীদের একাংশ। একদিকে শুনানি চলতে থাকে, অন্যদিকে পুরসভার নোটিস অগ্রাহ্য করে বেআইনি নির্মাণের কাজও চলতে থাকে। আইনের সেই ফাঁক বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছেন মেয়র।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ