প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরিয়েই নার্স, মাইনে তিন-চার হাজার টাকা ! শিশুমৃত্যুর তদন্তে বর্ধমানের নার্সিংহোমগুলির কীর্তি ফাঁস
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমানের বহু নার্সিংহোমের নার্স হওয়ার জন্য চতুর্থ শ্রেণি পাশ হওয়ারও দরকার নেই। ওটি অ্যাসিস্ট্যান্টও যে কেউ হতে পারেন। এমনকি, কয়েকদিন ডাক্তারের সঙ্গে থাকলে চিকিৎসকও হওয়া যায়। অপারেশন থেকে যে কোনো ধরনের চিকিৎসা করার জন্য নার্সিংহোমগুলি থেকে ডাক আসে। যেমন রাতারাতি চিকিৎসক হয়ে উঠেছিল সাইদুল হক। একশ্রেণির নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রাতারাতি ধনী হওয়ার জন্যই এভাবে নিয়োগ করে। ‘নার্স’দের বেতন মাসে তিন-চার হাজার টাকা। ওটি অ্যাসিস্ট্যান্টরা দু’-থেকে আড়াই হাজার টাকা মাসে বেতন পায়। ওই সব নার্সিংহোমের মালিকরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল এবং অ্যানাস্থেটিস্ট বনোজ দে-কে জেরা করে পুলিশ এমনই তথ্য পেয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নবাবহাটের চার বছরের শিশুর অপারেশনের সময় ওই নার্সিংহোমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো নার্স ছিলেন না। অপারেশনের পর নার্সরাই মূলত রোগীর দেখভাল করেন। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী তাঁরা চিকিৎসকদের রিপোর্ট করেন। কিন্তু, চার বছরের শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তেমনটা হয়নি। শিশুটি বেহুঁশ অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও ওই নার্সিংহোমের স্বঘোষিত নার্সরা পরিবারের লোকজনদের জানায়, চার বছরের অরণ্য ঘুমিয়ে রয়েছে। ঠিক সময়ে ডাক্তার এলে হয়তো শিশুটি বেঁচেও যেত। 
বিজেপি নেতা অনীশ দাস বলেন, বর্ধমানের অধিকাংশ নার্সিংহোমে নিয়ম মানা হয় না। প্রশিক্ষিত নার্সদের নিয়োগ করতে হলে মোটা টাকা বেতন দিতে হয়। সেটা তারা করে না। ইংরেজি পড়তে না পারা মেয়েদেরও নার্স হিসাবে নিয়োগ করে। শুনছি, এতদিন পুটাই নামে এক দালাল সবকিছু সামাল দিত। সে নাকি নিজেকে পুলিশ অফিসার বলে দাবি করত। মৃত শিশুর পরিবারের লোকজন ওই দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আশা করি, পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পা বলেন, পুটাই নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। তার সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু নার্সিংহোমে আরএমও থাকেন না। ওয়ার্ডবয়রাই প্রাথমিক চিকিৎসা করে। তাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা খুবই কম। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসছে। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত শিশুর মামা সৌত্রিক হুই বলেন, ফাইমোসিসের মতো ছোট অপারেশন করতে গিয়ে ওরা ভাগ্নেকে মেরে ফেলছে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে নার্সিহোমগুলিতে কারা কাজ করে। ওই নার্সিংহোমে প্রশিক্ষত নার্স বা অন্যান্য কর্মী ছিলেন না। প্রশাসনের উচিত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে এভাবে অনেক মায়ের কোল খালি হবে। পুটাই নামে ওই দালাল টাকার বিনিময়ে আমাদের সঙ্গে রফা করতে চেয়েছিল। সে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।