Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা বেশি

নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫৭ নম্বর বুথে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটার ১৭৩।  লাগোয়া ৬৩ নম্বর বুথে ওই সংখ্যা ১৩৬।

নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা বেশি
  • ৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫৭ নম্বর বুথে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটার ১৭৩।  লাগোয়া ৬৩ নম্বর বুথে ওই সংখ্যা ১৩৬। পাশাপাশি দু’টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে অ্যাডজুডিকেশন ভোটারের সংখ্যা ৩০৯। অথচ, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের হিন্দু অধ্যুষিত ৫৫ নম্বর বুথে মাত্র একজন, ৫৪ নম্বর ৯ জন এবং ৫৬ নম্বরে ১১ জন বিচারাধীন ভোটার। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বসবাস ৬৬ নম্বর বুথে। সেখানে ৫১ জন অ্যাডজুডিকেশন ভোটারের মধ্যে ৫০ জনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। শুধু ভোটার নয়, মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৯ নম্বর বুথের বিএলও শেখ আমানুল্লা, ৬৬ নম্বর বুথের বিএলও শেখ জাকির হোসেন, ৬৮ নম্বর বুথের বিএলও শেখ সফিউল্লা হক এবং ৭০ নম্বর বুথের বিএলও শেখ সাবির আলিও বিচারাধীন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত।

Advertisement

নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য শেখ শাহাবুদ্দিন ও তাঁর বউদি অ্যাডজুডিকেশন ভোটার। শাহাবুদ্দিনের বাড়ি কেন্দামারি জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতে। শুধুমাত্র ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ১১০০ ভোটার বিচারাধীন। ওই পঞ্চায়েতের সাতটি সংখ্যালঘু অধ্যষিত বুথেই বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে বিচারাধীন ভোটার ৮৮১৯ জন। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে ওই সংখ্যাটা ৩৮১৪জন। শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম বিধানসভায় অ্যাডজুডিকেশন ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৩৩ জন। বিচারাধীন ভোটারের অধিকাংশই সংখ্যালঘু ভোটার। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় অ্যাডজুডিকেশন শব্দ জুড়ে যাওয়ায় অনেকেই উদ্বিগ্ন। এনিয়ে ভোটাররা বিএলওদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। শেষমেশ ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না তানিয়ে প্রশ্ন করছেন। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুরের ৬৩ নম্বর বুথের বিএলও সাবির মহম্মদ বলেন, আমার বুথে ১৩৬ জন ভোটার বিচারাধীন। ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে নাম থাকা অনেক ভোটারও বিচারাধীন। লিস্ট প্রকাশের পর তাঁরা বাড়িতে চলে আসছেন। কী হবে তানিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। আমরা জানাচ্ছি, একটা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরবে। ধৈর্য ধরুন।
নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শেখ সাহাবুদ্দিন বলেন, সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এটা করা হয়েছে। আমি একজন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। ভোটার তালিকায় আমার নাম অ্যাডজুডিকেশন দেখে অবাক হয়েছি। শুধুমাত্র কেন্দামারি-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ১১০০ জন বিচারাধীন রয়েছেন। তাঁরা অনেকের নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে। আমরা তাঁদের আশ্বস্ত করছি।
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ১৬টি বিধানসভা। এই ১৬টির মধ্যে মোট ৮০ হাজার ১৭৬ জন ভোটার অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় আছেন। তারমধ্যে নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, মহিষাদল, তমলুক প্রভৃতি বিধানসভা এলাকায় বিচারাধীন ভোটার বেশি। মোট ২০ জন বিচারক বিচারাধীন ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। এক্ষেত্রে মাইক্রো অবজার্ভার, ইআরও এবং এইআরওদের নোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই যাচাইয়ের তালিকায় থাকা ভোটারদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ