Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিউ গড়িয়া-বারুইপুর মেট্রো প্রকল্প বাতিল করল মোদি সরকার

নিউ গড়িয়া-বারুইপুর মেট্রো প্রকল্প বাতিল করল মোদি সরকার
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: আবারও বঞ্চিত বাংলা! বহু প্রতীক্ষিত নিউ গড়িয়া (কবি সুভাষ) -বারুইপুর মেট্রো প্রকল্প বাতিল করে দিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শুক্রবার সংসদে লিখিতভাবেই একথা জানিয়েছেন। তারপর থেকে এই বিষয়ে তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের বিষয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন এদিন। বঙ্গ বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র জানতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কি নিউ গড়িয়া থেকে বারুইপুর পর্যন্ত নতুন মেট্রো প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে? যদি করে থাকে, তাহলে এই প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি কী? উত্তরে রেলমন্ত্রী সংসদের উচ্চকক্ষে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই নয়া মেট্রো করিডরের জন্য সমীক্ষার কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কারণ, সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এই মেট্রো করিডরে পর্যাপ্ত সংখ্যায় যাত্রী হবে না। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, স্বয়ং রেলমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর প্রস্তাবিত প্রকল্পের কার্যত সলিল সমাধি হয়ে গেল।
Advertisement
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার আরও এক নজির তৈরি হল এই সিদ্ধান্তে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার নিরিখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই অংশে গণপরিবহণ ব্যবস্থা আরও সুগম করতে এই মেট্রো রুট একান্ত জরুরি। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মেট্রো প্রকল্পের যাবতীয় পরিকল্পনা করে এসেছিলেন। কিন্তু সস্তা রাজনীতি এবং বঙ্গবাসীর প্রতি প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের কারণে কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পটি বাতিল করল।’ তৃণমূলের অন্যতম এই হেভিওয়েট নেতার দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাজনীতির ক্ষুদ্র চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে এই মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতীয় রেলের উদ্যোগী হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলেও জানান ফিরহাদ। 
রাজ্যসভার অধিবেশনে প্রশ্নকর্তা শমীক ভট্টাচার্যকেও রেলমন্ত্রীর এমন জবাব খানিকটা হলেও বিস্মিত করেছে। কারণ, ওই লাইনে পর্যাপ্ত যাত্রী হবে না, এমন যুক্তি মানতে শমীকবাবুও খুব একটা রাজি নন। চলতি অধিবেশনে বঙ্গ বিজেপির এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন (৩৩টি) করেছেন তিনি। সবক’টি প্রশ্নই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প কেন্দ্রিক। পরে শমীকবাবু বলেন, ‘রেলমন্ত্রী লিখিতভাবে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আরও স্পষ্টভাবে জানতে সংসদে অতিরিক্ত প্রশ্ন করার সুযোগ পাইনি। তবে আমি আগামী দিনে এই ইস্যুতে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও কথা বলব। বাংলার অগ্রগতির জন্য রাজনীতি ভুলে এক হয়ে কাজ করতে চাই আমরাও’ 
সম্পর্কিত সংবাদ