নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘আবার নতুন করে সব শুরু হবে। চাপ নয়, তৈরি হও।’ ১৪ মাস পর জেলমুক্ত হয়ে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়ায় এসে কর্মীদের এই বার্তাই দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কর্মীদের তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, উন্নয়নই একমাত্র পথ। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। এর আগে রবিবার দলীয় কর্মীদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের মধ্যেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে হাবড়ায় একগুচ্ছ উন্নয়নের ফিরিস্তি শোনালেন বিধায়ক।
Advertisement
রবিবার সকালে তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আসেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়ায়। শহরের ২ নম্বর রেলগেটে গাড়ি থেকে নেমে প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছন পুরসভায়। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন নেতা-কর্মীরা। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে স্বাগত জানিয়ে যশোর রোডে দু’ধারে টাঙানো ছিল ব্যানার। সাদা পায়জামা, হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন নেতা-কর্মীরা। নেতা ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়ার সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চাননি। কেউ হাত মিলিয়েছেন, কেউ আবার ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে প্রণামও করেছেন। জ্যোতিপ্রিয়র দু’পাশে ছিলেন হাবড়া পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলিমেশ দাস। সামনে হাত ধরে ব্যারিকেড করে কর্মীরা। তার মধ্যে ঢুকে প্রণাম সেরেছেন মহিলারা। খোঁজ নিয়েছেন তাঁর শরীরের। এদিন পুরভবনে হাবড়ার পাশাপাশি দলের গোবরডাঙা, মছলন্দপুর, অশোকনগর ও বারাসতের নেতৃত্বকেও দেখা গিয়েছে। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন। তাই, নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন বিধায়ক। তিনি এদিন পুর চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলারদের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করেছেন। পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তাঘাট, পুকুরের গার্ডওয়াল, পানীয় জল, হাবড়া-মগরা রোড সম্প্রসারণ ও আলোর ব্যবস্থা, হাবড়া হাসপাতালে বৈদ্যুতিকীকরণ, বস্ত্রহাট চালু করা, বৈদ্যুতিক চুল্লি ও শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়নের ব্যাপারে কাউন্সিলারদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিধায়ক। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, কর্মীরাই দলের সম্পদ। এতদিন কর্মীদের সঙ্গে থাকতে না পারার আফশোস রয়েছে। এদিনের আনন্দটা আলাদা। আমার কাছে পাখির চোখ হল হাবড়ার উন্নয়ন। বেলা ১টা নাগাদ পুরসভা থেকে বের হন জ্যোতিপ্রিয়। সেই সময় কর্মীদের উদ্দেশে হাত তুলে তাঁর বার্তা, ‘আবার নতুন করে সব শুরু হবে। চাপ নয়, তৈরি হও।’ এরপর বিধায়ক কলতান প্রেক্ষাগৃহ পরিদর্শনের পর কর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত বনভোজনে শামিল হন। সবশেষে মছলন্দপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত এক কিশোরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।



