Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতাজির সভায় যোগ দিয়ে স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন ‘বিপ্লবী সুধাকর’

নেতাজির সভায় যোগ দিয়ে স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন ‘বিপ্লবী সুধাকর’
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: সুভাষচন্দ্রের সভায় গেলে স্কুল থেকে বহিষ্কৃত করা হবে। এই মর্মে নোটিস জারি হয়েছিল ঝাড়গ্রামের রাজমাতার নামাঙ্কিত কুমকুমারী বিদ্যালয়ে। কিন্তু সেই নোটিস অমান্য করে নেতাজির সভায় গিয়ে স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র। নেতাজির জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে সেইসব ঘটনাই উঠে আসতে শুরু করেছে ঝাড়গ্রামের প্রবীণ মানুষদের স্মৃতিতে। 
Advertisement
১৯৪০ সালের ১২ মে নেতাজি ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন এক রাজনৈতিক সফরে। নেতাজির সেই ঝাড়গ্রাম সফর এক ঐতিহাসিক ঘটনা। প্রতিবছর ২৩ জানুয়ারি এলেই নেতাজির সেই সফর ঝাড়গ্রামবাসীর অন্তরে ঝড় তোলে। ২০১৬ সালে নেতাজির জন্মজয়ন্তীর দিন তাঁর ঝাড়গ্রাম সফরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্রের ঝাড়গ্রাম সফর’ নামে একটি তথ্য সমৃদ্ধ পুস্তিকা প্রকাশ করেছিলেন ঝাড়গ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক তারাপদ কর। সেই পুস্তিকাতেই নেতাজির সফরের বিস্তারিত তথ্য, সভার বক্তব্য ও প্রেস রিলিজ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। 
এই পুস্তিকার এক নিবন্ধে তারাপদবাবু উল্লেখ করেছেন, ব্রিটিশ রাজের প্রতি ভক্তি ও নেতাজি বিরোধিতার নানা কাহিনি এখনও বহু ঝাড়গ্রামবাসীর মুখে শোনা যায়। সুভাষচন্দ্রের বিরোধীরা তাঁর সভায় মানুষের আসা আটকাতে নানা অপপ্রচার ও কৌশল অবলম্বন করেছিল। ঝাড়গ্রাম রাজের পক্ষে ম্যানেজার তথা প্রধান পরামর্শদাতা দেবেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য রাজমাতার নামাঙ্কিত কুমকুমারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধেশ্যাম বসুকে দিয়ে প্রত্যেক ক্লাসে নোটিস পাঠিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন, যদি কোনও ছাত্র সুভাষচন্দ্রের সভায় যায়, তাহলে তাকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হবে। 
১৯৪০ সালের ১২ মে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্দেশ্যে দু’টি মানপত্র পাঠ করেন যুবক সমিতির পক্ষ থেকে চিঙুড়কষা গ্রামের বাসিন্দা রামচন্দ্র মাহাত। জানা যায়, নেতাজি টানা আড়াই ঘণ্টা এই মানপত্রের জবাবি ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণ দেওয়ার সময়েই স্কুলের সেই নোটিস সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, ‘মেদিনীপুরে যে অমানুষিক অত্যাচার হইয়াছে হেডমাস্টার মহাশয়ের হুকুমের কথা শুনিয়া সে কথা মনে পড়িতেছে। দুঃখ ও লজ্জা হয় এইজন্য যে, এরকম মানুষ এখনও আছেন। তাঁহারা আবার ছেলেদের শিক্ষার ভার গ্রহণ করিয়াছেন। এই সকল হেডমাস্টারদের শিক্ষার জন্য স্কুল খোলা দরকার। হেডমাস্টার মহাশয় ছাত্রদিগকে বলিতেছেন, তোমরা রাজনৈতিক সভায় যাইও না। স্বরাজ হইলে প্রথমেই এই সকল শিক্ষকদের শিক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে।’ এই তথ্য সে সময়ে কলকাতার বহুল প্রচারিত একটি বাংলা দৈনিকে ১৪ মে মঙ্গলবার ও ১৫ মে বুধবার ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বলে পুস্তিকাতে  লিখেছেন তারাপদবাবু। এও জানা যায় যে, ঝাড়গ্রামের ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া ধোবাধোবিন গ্রামের বাসিন্দা সুধাকর মাহাত স্কুলের নোটিস অমান্য করে নেতাজির সভায় যোগ দিলে তাঁকে সত্যিই স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই নিয়ে স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক তথা সুধাকর মাহাতর ছেলে অঞ্জন মাহাত বলেন, কয়েক বছর আগে বাবা প্রয়াত হয়েছেন। সর্বভারতীয় একটি দৈনিক সংবাদপত্রে  বাবা নিজেই এই তথ্য জানিয়েছিলেন। বাবা সেই সময়ে ওই  স্কুলে ষষ্ঠ শেণিতে পড়তেন। ঝাড়গ্রামে নেতাজি সভায় যোগদান করায় বাবাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপর থেকে বাবা বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। তাঁকে অনেকেই ‘বিপ্লবী সুধাকর’ নামে চিনতেন। বাবা সামাজিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে বহুবার জেলে গিয়েছিলেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ