Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

নোটবাতিলের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি দেশের ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প

নোটবাতিলের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি দেশের ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ভারতের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিপুল ধাক্কা দিয়েছিল ২০১৬ সালের নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত। লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যায় কয়েক বছরের মধ্যেই। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হারের সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। জিডিপির বৃদ্ধির হারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত গ্রামীণ ভারত ও ছোট শহরের অর্থনীতির ভিত্তি হল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। এরপর করোনার সময় লকডাউনের কারণে নতুন করে চরম আঘাত নেমে আসে। ২০২৪ সালে এসে জানা গিয়েছে, করোনাকাল কেটে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদন হার এবং আর্থিক বৃদ্ধি এখনও প্রাক করোনা যুগেও পৌঁছতে পারেনি। অর্থাৎ করোনা আসার আগের বছরগুলিতে যতটা উৎপাদন হচ্ছিল, সেই পর্যায়েই এখনও ফেরেনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। 
Advertisement
২০১৫ সালে জিডিপিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অংশ ছিল ৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালে এসেও ছাড়ায়নি সেই হার। ২০১৯ সালের থেকেও এখন কম এই সেক্টরের আর্থিক অবদান। ৩০.১ শতাংশ হয়েছে বিগত এক বছর ধরে। সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই জানা যাচ্ছে, ২০১৯ সালেও ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জিডিপিতে অংশিদারিত্ব ছিল ৩০.৫ শতাংশ। 
অর্থমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসের পর মাস এই একই অঙ্কে আটকে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি  শিল্পের উৎপাদন ও অর্থনীতির অগ্রগতি। ২০২০ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রী নীতীন গাদকারি ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে এই জিডিপিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি  শিল্পের যোগদান ৪০ শতাংশে পৌঁছে যাবে। ২০২৫ সাল দোরগোড়ায়। ৪০ শতাংশ তো অনেক দূরের কথা, তা সাড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছয়নি। ২০২০ সালের সেই ঘোষণায় গাদকারি বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নতুন করে ৫ কোটি কর্মী যুক্ত হবে। বাস্তবে কী হয়েছে? ২০২৪ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মীর সংখ্যা ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পণ্য রপ্তানি ৫ বছরের মধ্যে বেড়ে যাওয়ার কথা। উল্টো হয়েছে। ২০২০ সালে রপ্তানি ছিল ৪৯.৭৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে রপ্তানি হয়েছে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ যে কোনও শিল্প ও  অর্থনীতির অগ্রগতির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম যা, সেই রপ্তানি এক ধাক্কায় ৪ বছরে কমে গিয়েছে ৪ শতাংশ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এভাবে থমকে যাওয়াই জিডিপি বৃদ্ধিহার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছে অর্থনৈতিক মহল। 
সম্পর্কিত সংবাদ