সংবাদদাতা, কাঁথি: ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠল কাঁথিতে। কাঁথি শহরের একটি নার্সিংহোমের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রীর অন্তিমযাত্রায় স্বামীর বুকফাটা কান্না আর হাহাকারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই পোস্টের কমেন্ট বিভাগে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তথা চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মৃতার পরিবার-পরিজনের প্রতি সমব্যথী হয়ে চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সকলেই। মৃতার নাম পায়েল মাইতি (২৫)। তাঁর বাড়ি কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের আলাদারপুট এলাকায়। সন্তান প্রসবের পর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। মূলত ভুল, ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ও চূড়ান্ত গাফিলতিতে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মৃতার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ। তবে পায়েলের সদ্যোজাত পুত্র সুস্থ এবং ভালো আছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, আলাদারপুট গ্রামের মিঠুন মাইতির স্ত্রী পায়েল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি পায়েলকে প্রসবের জন্য ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দুপুর ২টোয় সিজার হয়। পুত্রসন্তানের জন্ম দেন পায়েল। বিকেল ৪টেয় তাঁকে ওটি থেকে বেডে দেওয়া হয়। এদিকে সিজারের পর যে অংশে সেলাই ছিল, সেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। সন্ধ্যায় অবস্থা আরও জটিল হয়। মৃতার বাড়ির লোকজনের দাবি, চিকিৎসককে জানালে তিনি বলেন, এটা কোনও ব্যাপার নয়। তবে রক্ত দিতে হবে। তড়িঘড়ি বাড়ির লোকজন চারটি পাউচ রক্ত এনে দেন। চিকিৎসক রক্ত দিয়ে দেন। কিন্তু রক্তক্ষরণ আটকানো যায়নি। মৃতার পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, ওই চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিজারের গাফিলতি নানাভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। রোগীর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে বুঝে পরিবার-পরিজনরা চিকিৎসককে বলেন, আপনাদের আওতায় যদি না থাকে, তাহলে অন্যত্র রেফার করে দিন। কিন্তু ওই চিকিৎসক কর্ণপাত করেননি। আবার রোগী ঠিক হবে কি না তা নিয়েও মন্তব্য করেননি। শুধু মিথ্যা আশা-ভরসা দিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ চিকিৎসক কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু ততক্ষণে রোগীর শেষ অবস্থা। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবরকম চেষ্টা চালান বটে, কিন্তু সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে রাত দেড়টা নাগাদ পায়েল মারা যান। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। যদিও মৃতার ময়নাতদন্ত করাননি তাঁরা। দেহ বাড়িতে নিয়ে এসে পরদিন দাহ করে দেওয়া হয়।
এদিকে বাড়ির লোকজন এপর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিস-প্রশাসনের কাছে কোনও অভিযোগও দায়ের করেননি। পায়েলের স্বামী মিঠুন ও ভাই সুদীপ মুদি বলেন, ভুল পদ্ধতিতে সিজার এবং চূড়ান্ত গাফিলতি কারণে এমন ঘটে গেল। রোগীকে অন্যত্র রেফার করে দিলে হয়তো বেঁচে যেত। এখন আমাদের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ। শোকের আবহ কাটলে এনিয়ে পুলিস-প্রশাসনের দ্বারস্থ হব। ওই চিকিৎসক তথা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঠিক বিচারের দাবি জানাব।
এদিকে বাড়ির লোকজন এপর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিস-প্রশাসনের কাছে কোনও অভিযোগও দায়ের করেননি। পায়েলের স্বামী মিঠুন ও ভাই সুদীপ মুদি বলেন, ভুল পদ্ধতিতে সিজার এবং চূড়ান্ত গাফিলতি কারণে এমন ঘটে গেল। রোগীকে অন্যত্র রেফার করে দিলে হয়তো বেঁচে যেত। এখন আমাদের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ। শোকের আবহ কাটলে এনিয়ে পুলিস-প্রশাসনের দ্বারস্থ হব। ওই চিকিৎসক তথা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঠিক বিচারের দাবি জানাব।



