Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্দেশ সত্ত্বেও আবাসের টাকা ফেরাতে অনীহা, এফআইআর দায়ের নন্দীগ্রামের বিডিওর

নির্দেশ সত্ত্বেও আবাসের টাকা ফেরাতে অনীহা, এফআইআর দায়ের নন্দীগ্রামের বিডিওর
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নাম বিভ্রাটে নন্দীগ্রামে এক মনিরুলের পরিবর্তে আবাসের টাকা পান আর এক মনিরুল। বিডিও সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ অমান্য করায় এবার সেই মনিরুলের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর করলেন বিডিও। তাঁকে গ্রেপ্তার করে টাকা আদায় করা হতে পারে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর। এও জানা গিয়েছে, ওই টাকা ফেরত না দেওয়ার নেপথ্যে দাউদপুর পঞ্চায়েতের এক প্রভাবশালী মদত দিচ্ছেন। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, আমরা ওই ঘটনায় এফআইআর করেছি।
Advertisement
উল্লেখ্য, দাউদপুর পঞ্চায়েতের নয়নান গ্রামের ভ্যানচালক শেখ মনিরুল ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ নম্বরে ফোন করে পাকা বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন। পঞ্চায়েতের কর্মীরা গ্রামের অন্য মনিরুলের বাড়ি সার্ভে করেন। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের এক দাপুটে জনপ্রতিনিধি কর্মীদের ভুল বুঝিয়ে অন্য মনিরুলের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর নাম আবাস লিস্টে নথিভুক্ত হয়। সেই অন্য মনিরুলের অ্যাকাউন্টে ৬০হাজার টাকা ঢুকে যায়। বিষয়টি জানার পর ভ্যানচালক মনিরুল বিডিও অফিসের শরণাপন্ন হন। বিডিও ওই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। তাতে জানা যায়, সরাসরি মুখ্য‌মন্ত্রী নম্বরে ফোন করা মনিরুলের জায়গায় ওই গ্রামে অন্য মনিরুলের বাড়িতে ভিজিট হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রথম কিস্তির টাকাও ঢুকেছে।
এরপরই ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য শেখ আইজুদ্দিনের ছেলে মনিরুল শেখকে চিঠি দেন বিডিও। তিনি জানান, শেখ জালালের ছেলে শেখ মনিরুলের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠানো হবে। তাই ওই ৬০হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু, ওই মনিরুল কিছুতেই টাকা দিচ্ছেন না। এই কাজে তাঁকে পঞ্চায়েতের এক প্রভাবশালী মদত দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। বিষয়টি প্রশাসনেরও নজরে এসেছে। 
দাউদপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আইনাল হক বলেন, নয়নান গ্রামে দু’জন শেখ মনিরুল আছেন। নাম বিভ্রাটে এই সমস্যা হয়েছে। দু’জনই দুঃস্থ। ওই মনিরুল টাকা পাওয়ার পর বাড়ি তৈরির জন্য জিনিসপত্র কেনা শুরু করে দিয়েছেন। এখন তিনি টাকা ফেরাতে না পারলে আমরা কী করব? আমি এনিয়ে কাউকে মদত দিইনি। টাকা পাওয়া মনিরুল বলেন, আমি আবাসের টাকা পেয়ে ইট, বালি কিনেছি। পাকাবাড়ি তৈরির জন্য গর্ত খোঁড়া শুরু করেছি। আমি টাকা ফেরত দেওয়ার মতো জায়গায় নেই। প্রশাসন এফআইআর করলে আমার কিছু করার নেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ