নয়াদিল্লি: ভোট সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধন করল কেন্দ্র। এর ফলে চাইলেই আর আগের মতো বুথের সিসি ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিং ফুটেজের মতো বৈদ্যুতিন নথিগুলি দেখতে পারবেন না সাধারণ মানুষ। এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, এধরনের বৈদ্যুতিন নথির ‘অপব্যবহার’ রুখতেই নির্বাচনী বিধিতে বদলের এই সিদ্ধান্ত। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের ফলের পর থেকেই ইভিএম ইস্যু ও কমিশনের নিরপেক্ষতার অভাবের অভিযোগে সরব কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবিরের একটা অংশ। তারই মধ্যে সম্প্রতি হরিয়ানা ভোটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে তাৎপর্যপূর্ণ একটি নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। আইনজীবী মেহমুদ প্রাচার তাঁর আবেদনে ভিডিওগ্রাফি, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ এবং ফর্ম ১৭-সি পার্ট ১ ও ২-এর প্রতিলিপি দাবি করেছিলেন। সেই আর্জি মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। আদালতের ওই নির্দেশের পরপরই যেভাবে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ মেনে কেন্দ্রের মোদি সরকার বিধিতে সংশোধন করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শেষদিনে ‘চুপিসারে’ এই বদল আনা হয়েছে। সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর তোপ, স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রশ্নে ভয় কীসের নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের তরফে তথ্য লুকনোর এই চেষ্টার কড়া সমালোচনায় সরব হন জয়রাম রমেশ।
Advertisement
নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ মেনে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক ১৯৬১ সালের কনডাক্ট অব ইলেকশন রুলস-এর ৯৩ (২এ) নম্বর বিধিতে সংশোধন করেছে। ওই ৯৩ (২এ) নম্বর রুলে নির্বাচন সংক্রান্ত ‘সব নথি’ জনসমক্ষে আনার কথা বলা ছিল। সংশোধনের পর সেখানে বদল করে বলা হয়েছে, ‘সুনির্দিষ্ট নথি’ জনগণের জন্য মুক্ত থাকবে। অর্থাৎ আর সব নথি নয়, সাধারণ মানুষ সুনির্দিষ্ট কিছু নথিই দেখতে পাবেন। সরকারি সূত্রে খবর, নির্বাচন সংক্রান্ত ‘কাগুজে নথি’ আগের মতো দেখা গেলেও বাদ পড়ছে বিভিন্ন ‘বৈদ্যুতিন নথি’। আইন মন্ত্রক ও নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা পৃথকভাবে স্বীকার করছেন, আদালতের একটি মামলার কারণেই বিধিতে এই বদল। এরফলে এবার থেকে আগের মতো ভোট সংক্রান্ত সমস্ত নথি আর প্রকাশ্যে আনবে না কমিশন। আরটিআই কর্মী ভেঙ্কটেশ নায়েক বলেন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ভোটের ফলের যথার্থতা মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে ওই নথিগুলি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী বন্ড বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার নীতি প্রতিষ্ঠা করতে বলেছিল। নির্বাচনী বিধিতে এই সংশোধনী শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকে ভঙ্গ করেছে। হতাশ নির্বাচনী স্বচ্ছতাকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ। তাঁর বক্তব্য, স্বচ্ছতা রক্ষার প্রশ্নে এটা বিশাল বড় ধাক্কা। আর আইনজীবী মেহমুদ প্রাচা বলছেন, নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ নয়, এই সংশোধনী তা ফের প্রমাণ করল।



