Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

নির্বাচনী বিধি সংস্কারের বিরুদ্ধে মামলা সুপ্রিম কোর্টে

নির্বাচনী বিধি সংস্কারের বিরুদ্ধে মামলা সুপ্রিম কোর্টে
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: কেউ চাইলেই আর দেখানো যাবে না পোলিং বুথের সিসি ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিং ফুটেজের মতো বৈদ্যুতিন নথি। হঠাত্ করেই নির্বাচনী বিধিতে বদল এনে এমন ‘নিষেধাজ্ঞা’ চাপিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ মেনেই এই পদক্ষেপ। আর কমিশনের দাবি, বৈদ্যুতিন নথির ‘অপব্যবহার’ রুখতেই নির্বাচনী বিধিতে বদলের সিদ্ধান্ত। পাল্টা প্রশ্ন উঠেছিল, এর মাধ্যমে কি আদতে তথ্য লুকোনোর চেষ্টা করছে কমিশন? এবার এই বিধি বদলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কংগ্রেস। মঙ্গলবার হাত শিবিরের তরফে সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ রিট পিটিশন দাখিল করেছেন শীর্ষ আদালতে। তাঁর যুক্তি, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কমে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি সুপ্রিম কোর্ট সেই স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’ এক্স হ্যান্ডলে তিনি আরও লিখেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক সংস্থা কোনও আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ বিধিতে বদল করে দিতে পারে না। যে সব ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে সাহায্য করে, সেগুলিকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’ 
Advertisement
১৯৬১ সালে তৈরি কনডাক্ট অব ইলেকশন রুলস-এর ৯৩ (২এ)  নম্বর বিধিতে বলা ছিল, নির্বাচন সংক্রান্ত ‘সব নথি’ জনসমক্ষে আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ মেনে তা সংশোধন করেছে আইন মন্ত্রক। সংশোধনের পর সেখানে বলা হয়েছে, ‘সুনির্দিষ্ট’ কিছু নথিই জনগণের জন্য প্রকাশ্যে থাকবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ আর নির্বাচন সংক্রান্ত সব নথি দেখতে পাবেন না। ‘কাগুজে’ তথ্য আগের মতো দেখতে পাওয়া গেলেও বৈদ্যুতিন নথির উপরে ‘কোপ’ পড়তে চলেছে। অথচ নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিককালে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোটদানের হার রাতারাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি স্বয়ং। এই ঘটনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস। কিন্তু নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ভোটদানের হারে কারচুপি করা সম্ভব নয়। বিকেল পাঁচটা আর রাতের চূড়ান্ত ভোটদানের হারের মধ্যে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। ফলে এই নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।
সম্পর্কিত সংবাদ