লখনউ, ২০ নভেম্বর: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করানোই একমাত্র লক্ষ্য। সাংবাদিক বৈঠকে বারবার এমনটাই দাবি করে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার। তাই সেই অবাধ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই উত্তরপ্রদেশ পুলিসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আজ, বুধবার উত্তরপ্রদেশে ৯টি বিধানসভা আসনে চলছে উপ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। অভিযোগ, উপ নির্বাচনে কয়েকটি এলাকায় ভোটারদের ভোটার কার্ড পরীক্ষা করছেন পুলিসকর্মীরাই। ভোট দিতে যাওয়ার পথে ভোটার কার্ড দেখাতে হচ্ছে পুলিসকেই। সমাজবাদী পার্টির তরফে এমনই অভিযোগ পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে সাত পুলিস আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সঙ্গে অবাধ ভোটের পরিবেশ বজায় রাখতে উত্তরপ্রদেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘কোনও ভোটারকে ভোটদানে বাধা দেওয়া যাবে না। নির্বাচনের সময়ে কোনওরকমের একতরফা পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না। একটি অভিযোগ পেয়েছি, তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছি আমরা। কেউ যদি সেই তদন্তে দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।’ জানা গিয়েছে, সাসপেন্ড হওয়া সাত পুলিস আধিকারিকের মধ্যে তিনজন মোরাদাবাদে, দু’জন কানপুর জেলায় ও দু’জন মুজফ্ফরনগরে কর্মরত ছিলেন। যদিও ভোটারদের ভোটার কার্ড পরীক্ষার এই অভিযোগ প্রথম নয়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও একই অভিযোগ করেছিল অখিলেশের দল সপা। কিন্তু তখন সেইভাবে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি নির্বাচন কমিশনকে, অভিযোগ সপার। এদিকে উত্তরপ্রদেশে উপ নির্বাচন চলাকালীন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অখিলেশ যাদব। তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি গ্রামে গিয়ে এক পুলিস আধিকারিক বন্দুক উঁচিয়ে মহিলা ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। যাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে। সপা প্রধান নিজেই জানিয়েছেন ওই পুলিস আধিকারিক উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর জেলার মীরাপুর বিধানসভার কাকরৌলি থানায় কর্মরত। তাঁর নাম রাজীব শর্মা। যদিও উত্তরপ্রদেশ পুলিস সূত্রে খবর, ওই এলাকায় আজ, বুধবার সকালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। বিশাল পুলিস বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ায় দুই এসআই পদমর্যাদার অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।



