Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নোংরা ফেলায় দূষিত সাহেবপুকুরের জল, পুরসভার সাফাইয়ের পরও ফিরল না হুঁশ

নোংরা ফেলায় দূষিত সাহেবপুকুরের জল, পুরসভার সাফাইয়ের পরও ফিরল না হুঁশ
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বনগাঁ: বাসিন্দারা পুজোর ফুল, বেলপাতা থেকে শুরু করে নানা ধরনের আবর্জনা ফেলায় দূষিত হয়ে গিয়েছিল পুকুরের জল। ওই জলে ভেসে বেড়াত থার্মোকলের টুকরো, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যারি ব্যাগ। বনগাঁর সাহেবপুকুরে ওই জলাশয়ের পাশ দিয়ে গেলেই নাকে আসত দুর্গন্ধ। বনগাঁবাসীর এক সময়ের গর্বের এই জলাশয় ক্রমশ মৃত্যুর দিকে চলে গিয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার জলাশয়টি পরিষ্কার করেছে বনগাঁ পুরসভা। তাও বাসিন্দাদের আক্কেল হয়নি। পুকুর সাফ হওয়ার পরেও তাঁরা আগের মতো পুকুরে নোংরা-আবর্জনা ফেলেই চলেছেন।
Advertisement
বনগাঁ আদালতের পাশে সাহেবপুকুর এক সময় ছিল বনগাঁর গর্ব। আশপাশের বাসিন্দারা এই পুকুরে স্নান করতে আসতেন। সরকারি এই পুকুরে মাছও ধরতেন কেউ কেউ। কিন্তু সেসব আজ অতীত। সাহেবপুকুর আজ নামেই পুকুর। এই জলাশয় তার ঐতিহ্য হারিয়েছে। পুকুরের জলে রোজ পড়ছে ক্যারি ব্যাগ ভর্তি পুজোর ফুল, বেলপাতা ও অন্যান্য সামগ্রী। জল হয়ে উঠছে দূষিত। বনগাঁর প্রতাপগড়ের বাসিন্দা মিলনকান্তি দাস বলেন, এক সময়ে সাহেবপুকুর বনগাঁর গর্ব ছিল। এই পুকুরে এক সময় স্নান করেছি, মাছ ধরেছি। টলটলে জল ছিল তখন। এখন পুকুরের দিকে তাকালে মন খারাপ লাগে।
প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে অনেকেই ক্যারি ব্যাগে নোংরা-আবর্জনা ভরে পুকুরে ছুড়ে দেয়। দিনে-রাতে একই চিত্র দেখা যায়। কেউ কেউ এই পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জনও করেন। বনগাঁর বাসিন্দা বলরাম সাহা বলেন, শহরে অনেক পুকুর অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এখন সম্বল বলতে এই সাহেবপুকুর। মানুষের সচেতনতার অভাবে এই পুকুরও একদিন হয়তো হারিয়ে যাবে।
বর্তমানে বনগাঁ পুরসভা এলাকায় মোট ৩১টি জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে ছ’টি একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে। তাতে বছরের কোনও সময়েই জল থাকে না। বাকি ২৫টির মধ্যে অন্যতম সাহেবপুকুর। পুরসভার পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পুকুর পরিষ্কার করা হয়। তবে মানুষ সচেতন না হলে এই জলাশয়কে বাঁচানো যাবে না বলেই মনে করছেন অনেকে। পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, খবর পাওয়ামাত্র সাহেবপুকুর সাফ করা হয়েছে। তবে মানুষকে সচেতন হতে হবে। তাঁরা নোংরা-আবর্জনা না ফেললে পুকুরের জল দূষিত হতে পারে না। এরপর প্রয়োজনে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ