Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নারী ও শিশুবান্ধব হয়ে উঠছে রাজ্যের অর্ধেক গ্রাম পঞ্চায়েত, পার্ক-অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ

নারী ও শিশুবান্ধব হয়ে উঠছে রাজ্যের অর্ধেক গ্রাম পঞ্চায়েত, পার্ক-অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যের প্রায় অর্ধেক গ্রাম পঞ্চায়েত শিশু ও মহিলাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুরা যাতে আরও আনন্দময় শৈশব পায়, তার জন্য উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ পঞ্চায়েত। তাদের জন্য খেলার মাঠের পাশাপাশি পার্ক, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সাজিয়ে তুলবে এই পঞ্চায়েতগুলি। শিশুমনের কল্পনা, ভালো লাগার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, মহিলাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু পদক্ষেপ করছে আরও অনেকগুলি পঞ্চায়েত। সব মিলিয়ে আগামী বছর রাজ্যের প্রায় অর্ধেক পঞ্চায়েত হতে চলেছে শিশুবান্ধব ও মহিলাবান্ধব।
Advertisement
মহিলা ও শিশুদের বিষয়টি রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে প্রথম থেকেই। সেই সূত্রে এবার নারী ও শিশুবান্ধব পঞ্চায়েত গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। রাজ্যে মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ৩,৩৩৯। সূত্রের খবর, এর মধ্যে ৯০০টি গ্রাম পঞ্চায়েত শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ৫৪৮টি পঞ্চায়েত জানিয়েছে, তারা মহিলাবান্ধব পঞ্চায়েত গড়ে তুলবে। তার জন্য ইতিমধ্যে নানা পরিকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। যেমন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর ১ নম্বর ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত শিশুবান্ধব হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি খেলার মাঠ তৈরির কাজ হবে। বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লক প্রশাসন তাদের আওতাধীন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে ছাত্রীদের সুবিধার্থে স্কুলে স্কুলে যেমন স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহিলাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুগলির শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া ব্লক শিশু ও মহিলাবান্ধব পঞ্চায়েত তৈরি করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, আগামী বছরের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (জিপিডিপি) বানানো শুরু করবে পঞ্চায়েতগুলি। বছর তিনেক আগে কেন্দ্রীয় সরকার ন’টি থিমের উপর জোর দিয়ে এই প্ল্যান তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু  ছ’টি থিমকে বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত গুরুত্বই দেয়নি। তাই এবার এই ‘অবহেলিত’ থিমগুলি নিয়েই কাজ করতে হবে পঞ্চায়েতগুলিকে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রত্যেক পঞ্চায়েতের কাছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আনটায়েড ফান্ডে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা থাকেই। থিম কার্যকর করতে তাদের এই টাকা থেকে অন্তত ২৫ শতাংশ খরচ করতে হবে।’ নারী ও শিশুবান্ধব ছাড়াও ‘স্বাস্থ্যকর গ্রাম’ গড়ে তুলতে পদক্ষেপ করবে ৬৫০টি পঞ্চায়েত। 
সম্পর্কিত সংবাদ