Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেফ্রোলজি বিভাগে ফাঁকিবাজির অভিযোগ, চার চিকিত্সক, মাত্র তিনদিন আউটডোর

নেফ্রোলজি বিভাগে ফাঁকিবাজির অভিযোগ, চার চিকিত্সক, মাত্র তিনদিন আউটডোর
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক থাকলেও সপ্তাহে মাত্র তিনদিন আউটডোর চলে। এতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের ফাঁকিবাজি দেখছেন হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশ। তাদের ফাঁকিবাজির জন্যই সপ্তাহে ছ’দিন আউটডোর পরিষেবা পাচ্ছেন না কিডনি সমস্যা নিয়ে আসা রোগীরা। অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার ওই তিনদিন আউটডোরে বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকের অসুস্থতা বেড়ে যাচ্ছে। 
Advertisement
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে  নেফ্রোলজির ইন্ডোর পরিষেবা তথা আলাদাওয়ার্ড নেই। শুধু আউটডোর ও ডায়ালিসিস পরিষেবা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চারজন ডাক্তার থাকার পরও আউটডোর পরিষেবার দিন না বাড়ানোয় ক্ষেত্রে ফাঁকিবাজি অভিযোগ আরও জোরালোভাবে উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় মাত্র দু’জন নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ চন্দন দত্ত এবং ডাঃ ডি সেন ছিলেন। তখন সপ্তাহে ছ’দিন নেফ্রলজির আউটডোর চলত। ডাক্তারের সংখ্যা এখন দ্বিগুণ। তা হলেও পরিষেবা অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। 
আউটডোরের দিন কমিয়ে এনে কি বিভাগের কোনও ডাক্তারকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্তত এমনই অভিযোগ উঠছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক সিনিয়র চিকিৎসক বলেন,  এখানে ডায়ালিসিস হয়। তবে নেফ্রোলজির আলাদা কোনও ওয়ার্ড নেই। তিনজন স্থায়ী এবং একজন চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক নিয়ে নেফ্রলজি আউটডোর সপ্তাহে তিন দিন চলে। এর পিছনে কোন ডাক্তারকে হাসপাতাল ছেড়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের  সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অঙ্ক রয়েছে। এই চিকিৎসকরাই আরজি কর কাণ্ড নিয়ে নানা নীতির কথা বলেছেন, আন্দোলন করেছেন। কিন্তু হাসপাতালে নিজেদের কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তাদের চূড়ান্ত অনীহা ও গাফিলতি রয়েছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার থাকার পরও কেন প্রতিদিন আউটডোর খোলা থাকবে না? অবিলম্বে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রলজি বিভাগে চিকিৎসকদের ভূমিকার ওপর রাজ্য সরকারের কড়া নজরদারি রাখা প্রয়োজন।
নিজস্ব তিনজন স্থায়ী নেফ্রলজিস্ট থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চুক্তির ভিত্তিতে বাইরে থেকে একজন নেফ্রলজিস্ট নেওয়ার যৌক্তিকতা দেখছেন না চিকিৎসকদের একাংশ। কার সুবিধার্থে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক এনে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, আউটডোর পরিষেবা সপ্তাহে মাত্র তিনদিন চলায়  হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগ থেকে রোগী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। চিকিৎসকদের কেউ কেউ এই চক্রকে মদত দিচ্ছেন। 
এই ব্যাপারে হাসপাতাল সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, আগে দু›জন ডায়ালিসিস মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন। তাঁরা সপ্তাহ ছ›দিন ডায়ালিসিস ইউনিট চালাতেন। এখনও সপ্তাহে ছ’দিন ডায়ালিসিস ইউনিট চলছে। এখন আমাদের স্থায়ী তিনজন নেফ্রোলজিস্ট রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন শিশুদের জন্য। দুজন নেফ্রলজিস্ট দিয়ে পরিষেবা সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই চুক্তির ভিত্তিতে বাইরে থেকে একজন নেফ্রোলজিস্ট নেওয়া হয়েছে। যদিও সুপারের এই বক্তব্য মানতে নারাজ চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ।
সম্পর্কিত সংবাদ