


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফ গ্রাহকরা তাঁদের জমানো টাকা থেকে প্রয়োজন মতো অগ্রিম নিতে পারেন। চিকিৎসার খরচ, বিয়ে, পড়াশোনা ইত্যাদি প্রয়োজনে যেমন অগ্রিম নেওয়া যায়, তেমনই বাড়ি করার ক্ষেত্রেও সেই সুযোগ পান পিএফ গ্রাহকরা। যে টাকা অগ্রিম বাবদ তাঁরা নেন, তা আর ফেরত দিতে হয় না। পিএফ এর জমা টাকা থেকে তা বাদ যায়। সম্প্রতি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও জানিয়েছে, বাড়ি তৈরির জন্য একবার অগ্রিম নেওয়ার পর তা সারাইয়ের প্রয়োজনে ফের অগ্রিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন গ্রাহক। সেই টাকাও অগ্রিম পাওয়া যাবে। এর জন্য কোনও নথি জমা করতে হবে না। পিএফ দপ্তর জানিয়েছে, সেল্ফ ডিক্লারেশন বা শুধুমাত্র আবেদনের ভিত্তিতেই ওই টাকা পবেন গ্রাহক। এই সুবিধা দিতে ইতিমধ্যেই সফ্টওয়্যারে প্রয়োজনীয় বদল আনা হয়েছে।
সাধারণত বাড়ি তৈরির জন্য অগ্রিম নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহককে অন্তত পাঁচ বছর পিএফের আওতায় থাকতে হয়। কত টাকা তিনি অগ্রিম বাবদ পাবেন, সেই হিসেব কষতে তিনটি বিষয় দেখা হয়। তিন বছরের বেতন (বেসিক ও ডিএ মিলিয়ে), পিএফ গ্রাহক ও কর্মদাতা উভয়ের জমা করা মোট তহবিল (সুদ সহ) এবং বাড়ি তৈরির মূল খরচ। এই তিনের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেই পরিমাণ টাকা মেলে। সূত্রের খবর, এখন বাড়ি তৈরি হওয়ার পাঁচ বছর পর ফের অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ মিলবে কোনও নথি ছাড়াই। এক্ষেত্রে বাড়ির মালিক পিএফ গ্রাহক নিজে হতে পারেন, তাঁর স্ত্রী বা স্বামীও হতে পারেন। দু’জনের নামে মালিকানা থাকলেও সমস্যা হবে না। এই দফায় অগ্রিম বাবদ কত টাকা মিলবে, তাও জানিয়েছে পিএফ দপ্তর। এক বছরের বেতন (বেসিক ও ডিএ মিলিয়ে), শুধুমাত্র কর্মচারীর জমানো টাকা (সুদ সহ) এবং বাড়ি তৈরি বা সারাইয়ের খরচ—এই তিনের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেই টাকা মিলবে অগ্রিম হিসেবে। এক্ষেত্রে কোনও নথির দরকার নেই।
পিএফ দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, প্রয়োজনে বাড়ি সারাইয়ের কাজে গ্রাহক আরও একবার অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবার বাড়ি মেরামতির জন্য অগ্রিম নেওয়ার দশ বছর পর মিলবে এই সুযোগ। এক্ষেত্রেও আগের মতো হিসেবেই ঠিক হবে টাকার পরিমাণ। পিএফ কর্তাদের দাবি, অগ্রিম দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, তা বহু মানুষের উপকারে আসবে।
বাড়ি তৈরি বা মেরামতি সহ অন্য যে কোনও প্রয়োজনে গ্রাহক অগ্রিমের জন্য আবেদন করলে এতদিন ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অটো ক্লেম সেটেলমেন্ট’ হতো। অর্থাৎ, আবেদন জমা পড়লে সফ্টটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া সেরে দ্রুত টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে চলে যেত। এর চেয়ে বেশি টাকা নিতে গেলে দপ্তরের কর্তাদের অনুমতি প্রয়োজন হতো। সেই নিয়মও শিথিল করেছে পিএফ দপ্তর। এখন থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘অটো ক্লেম সেটেলমেন্ট’-এর সুবিধা মিলবে।